বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কমলনগরে নদী কেড়েছে ভিটেমাটি, কাড়তে পারেনি ভালোবাসা: চর কালকিনিতে মাস্টার সাইফুল্লাহর ৩৩ বছরের আস্থার প্রতিচ্ছবি কুষ্টিয়ায় জিকে ক্যানেল থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার পিআরও হিসেবে সাংবাদিক নিয়োগের প্রস্তাব সচিবালয়ে জমা   আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তিন ভাই গ্রেপ্তার  লংগদু নানিয়ারচর সংযোগ সড়ক কাজে আবারো বাঁধা, দুটি ড্রজার অকেজো করে দিয়েছে সন্ত্রাসী চক্র”, নিরাপত্তা চায় কর্তৃপক্ষ অভয়নগরে বন উজাড় করে কয়লা সাম্রাজ্য, আংশিক অভিযানে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী কুষ্টিয়ায় সুলভ মূল্যে মাংস বিক্রয় রামগড়ে দুই হোটেল মালিককে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা গাইবান্ধার নারীর কণ্ঠস্বর জাতীয় সংসদে? তৃণমূলের প্রত্যাশা ফরিদা ইয়াসমিন শোভা  পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে লংগদু জোনের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

কমলনগরে নদী কেড়েছে ভিটেমাটি, কাড়তে পারেনি ভালোবাসা: চর কালকিনিতে মাস্টার সাইফুল্লাহর ৩৩ বছরের আস্থার প্রতিচ্ছবি

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

 

মোখলেছুর রহমান ধনু

রামগতি -কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে মানচিত্র বদলে গেছে, বিলীন হয়েছে হাজারো মানুষের ঘরবাড়ি। কিন্তু বদলায়নি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ১ নং চর কালকিনি ইউনিয়নের মানুষের আবেগ আর ভালোবাসা। দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন মাস্টার সাইফুল্লাহ। নদী ভাঙনে নিঃস্ব হওয়া হাজারো মানুষ এখন অন্য ইউনিয়নে বসবাস করলেও, শুধুমাত্র তাদের প্রিয় নেতার টানে এবং ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে ফিরে আসেন প্রাণের কালকিনিতে।

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাস্টার সাইফুল্লাহ এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। স্থানীয়দের মতে, রাস্তাঘাট নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং দুর্যোগকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ইউনিয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মেঘনার ভাঙনে ১ নং চর কালকিনি ইউনিয়নের সিংহভাগ এলাকা বর্তমানে নদীগর্ভে। এই ইউনিয়নের প্রায় ১৮ হাজার ভোটার এখন বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসবাস করছেন। ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্য ইউনিয়নে আশ্রয় নিলেও এই মানুষগুলোর সব ধরণের নাগরিক সুবিধা ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন মাস্টার সাইফুল্লাহ। ভিটেমাটিহীন দরিদ্র ও নদী ভাঙা মানুষগুলো সব সময় সঠিক সময়ে এবং সঠিক ভাবে সরকারি বরাদ্দ ও সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১৮ হাজার ভোটের এই ইউনিয়নের ভোটাররা অন্য জায়গায় বসতবাড়ি নির্মাণ করলেও ইউনিয়নের প্রতি তাদের টান বিন্দুমাত্র কমেনি। নির্বাচনের সময় আসলে তারা মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়ে ভোট দিতে আসেন। স্থানীয় ভোটাররা জানান,

“নদী আমাদের ঘরবাড়ি নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের অভিভাবককে কেড়ে নিতে পারেনি। মাস্টার সাইফুল্লাহ গত ৩৩ বছর যেভাবে আমাদের সুখে-দুখে পাশে ছিলেন, তার প্রতিদান আমরা ভোটের মাধ্যমে দিই।”

মাস্টার সাইফুল্লাহর এই দীর্ঘ মেয়াদী সাফল্য ও জনপ্রিয়তা কমলনগরের রাজনীতিতে এক অনন্য উদাহরণ। নদী ভাঙা মানুষের সেবা এবং এলাকার উন্নয়নে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা চর কালকিনি ইউনিয়নকে এক সুসংগঠিত ইউনিটে পরিণত করেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তিনি একইভাবে মানুষের সেবা করে যাবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর