গ্রিসে পাঠানোর প্রলোভন: ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লিবিয়ায় আটকে নির্যাতন, দেশে ফিরলেন দুই যুবক
কাগজ ডেক্স :
গ্রিসে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর লিবিয়ায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দুই যুবক। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের পর অবশেষে তারা প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরেছেন।
ঘটনাটি উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী মো. শিহাব উদ্দিন (পেঙ্গুয়ারি গ্রাম) ও মো. হাবিবুর রহমান (বিনসাড়া গ্রাম) অভিযুক্ত আদম বেপারী মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর পুত্রবধূ মোছা. জলি খাতুনের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গ্রিসে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেন জাহাঙ্গীর আলম ও জলি খাতুন। দুই দফায় মোট ২৬ লাখ টাকা নেওয়ার পর গত ৭ মার্চ ঢাকার বিমানবন্দর থেকে তাদের লিবিয়ার বেনগাজিতে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে প্রায় ৪০ জনের সঙ্গে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
প্রায় ২০ দিন ধরে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। খাবারও ছিল অপ্রতুল। একপর্যায়ে জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা হুন্ডির মাধ্যমে জনপ্রতি ৭ লাখ টাকা পাঠালে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে লিবিয়ায় অবস্থানরত জলি খাতুনের এক আত্মীয়ের সহায়তায় আরও ১ লাখ টাকা খরচ করে তারা দেশে ফিরতে সক্ষম হন। গত ৫ এপ্রিল তারা দেশে ফেরেন।
এ ঘটনায় শিহাব উদ্দিন গত ১২ এপ্রিল তাড়াশ থানায় জাহাঙ্গীর আলম ও জলি খাতুনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান।
অভিযুক্ত জলি খাতুন মোবাইল ফোনে ৪ লাখ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেন, সরাসরি গ্রিসে পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় প্রথমে লিবিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। তবে প্রত্যাশিত কাজ না পাওয়ায় তারা ফিরে এসেছেন।
পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








