শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার ও দোয়া মাহফিলে হাজারো নেতাকর্মীর সমাগম কুষ্টিয়ায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে লাখ টাকা জরিমানা  সিংড়ায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালন উপলক্ষে অগ্নিকান্ড বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত  সংরক্ষিত নারী আসন, তৃণমূলের আলোচনায় ঠাকুরগাঁও মহিলাদলের সভাপরি ফোরাতুন নাহার প্যারিস  ময়মনসিংহে দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক সচেতনতামুলক মহড়া কমলনগরে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ: ‘যেই লাউ সেই কদু  কুষ্টিয়ায় সরকারি তিন দপ্তরে চুরি  স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও নেই ব্রিজ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী  তানোর প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করুক, সেটিই সরকারের প্রত্যাশা -তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী

স্বাধীনতার প্রথম সূর্যোদয়: যে কক্ষে রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের পতাকার নকশা

Reporter Name / ১৪ Time View
Update : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

মোখলেছুর রহমান ধনু

রামগতি -কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকার ইতিহাস কেবল একটি কাপড়ের টুকরো নয়, বরং এটি একটি জাতির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম দৃশ্যমান অঙ্গীকার। ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ১১৬ নম্বর কক্ষে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই পতাকার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছিল। বাঙালির স্বাধীনতার নেপথ্য কারিগর সিরাজুল আলম খানের নির্দেশে এবং অনুমোদনে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন একঝাঁক তরুণ ছাত্রনেতা।

তৎকালীন রাজনীতিতে সক্রিয় গোপন সংগঠন ‘নিউক্লিয়াস’ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এই পতাকার রূপরেখা তৈরি করেন। এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন:

আ স ম আবদুর রব,শাজাহান সিরাজ,কাজী আরেফ আহম্মেদ,মার্শাল মণি,হাসানুল হক ইনু

গবেষকদের মতে, বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে তখন অনেক সশস্ত্র ও গোপন সংগঠন সক্রিয় থাকলেও, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের পতাকার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা কেবল এই তরুণ নেতারাই সামনে নিয়ে আসেন। তাদের দূরদর্শী চিন্তা ও সাহসিকতার ফসল আজকের এই জাতীয় পতাকা।

“বাংলাদেশের পতাকার পরিকল্পনা, উত্তোলন ও নির্মাণের প্রতিটি ধাপে নিউক্লিয়াস ও তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের অবদান অনস্বীকার্য। এটি ছিল একটি নিয়মতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রথম প্রতীক।”

১৯৭০ সালে পরিকল্পিত সেই পতাকাই ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র-জনতার উত্তাল সমাবেশে প্রথম উত্তোলন করেন আ স ম আবদুর রব। সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্ত এবং তার মাঝে মানচিত্র খচিত সেই পতাকাটিই ছিল সাত কোটি বাঙালির মুক্তির দিশারী।

এই পতাকার নকশা ও উত্তোলন ছিল মূলত পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে স্বাধীন বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ১১৬ নম্বর কক্ষটি আজও বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল একটি পতাকার মাধ্যমে একটি দেশ জয়ের স্বপ্ন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর