বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার লংগদুতে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ পালিত  লংগদু গাঁথাছড়া বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার দাখিল শিক্ষার্থীদের দোয়া ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত দীঘিনালায় চার দশকের শিক্ষকতা শেষে সম্মানে বিদায় শান্তি রঞ্জন দেওয়ান ভোলাহাট প্রেসক্লাবের “পরিবার বনভোজন” আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত আটঘরিয়ায় ফজলুল হক কে হত্যাচেষ্টা: দুই পা গুঁড়িয়ে দিলেও অধরা আসামিরা, এলাকায় চরম আতংক বিরাজ করছে  রাণীশংকৈলে জামায়াত নেতা মহর আলীর দাফন সম্পন্ন মানিকদিপা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার দাখিল-২৬ পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া  ৯১ বছরেও খেলার মাঠ নেই—কমলনগরের কে.এম. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম সংকট সিরাজগঞ্জের তাড়াশে খালকুলা বাজারে ডেইরি খামারিদের জন্য বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত

আটঘরিয়ায় ফজলুল হক কে হত্যাচেষ্টা: দুই পা গুঁড়িয়ে দিলেও অধরা আসামিরা, এলাকায় চরম আতংক বিরাজ করছে 

Reporter Name / ২১ Time View
Update : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার শ্রীকান্তপুর গ্রামে ফজলুল হক খান কে (৪৭) নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনার দুই দিন পার হলেও এখন কোনো আসামি কে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিত এই হামলায় ফজলুল হকের দুই পা ভেঙে হাড় গুঁড়ো করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল সোমবার সকালে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১নং আসামি মাহবুব আলম ফজলুল হক কে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করেন। ওই সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও তর্কাতর্কি হয়।

এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর, দুপুর ২টার দিকে ফজলুল হক কে বাড়ির সামনে একা পেয়ে মাহবুব আলমের নেতৃত্বে তার মেজো ছেলে নাজমুস সাদাত নয়ন, ছোট ছেলে নাদীম মোস্তফা ও স্ত্রী ঝর্ণা খাতুন মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলা চলাকালীন নাদীম মোস্তফা হাসুয়া দিয়ে ফজলুল হকের পায়ে কোপ দেয় এবং নাজমুস সাদাত নয়ন জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে তার দুই পায়ের হাড় গুঁড়ো করে দেয়। মাহবুব আলম জিআই পাইপ দিয়ে ফজলুল হকের বুকে আঘাত করে পাঁজরের হাড় ভেঙে দেন

এবং ঝর্ণা খাতুন লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন। ফজলুল হকের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা উদ্ধার করতে এগিয়ে আসলে নাদীম মোস্তফা তার কোমর থেকে **পিস্তল সদৃশ আগ্নেয়াস্ত্র** বের করে উপস্থিত সবাইকে ভয় দেখায় এবং মামলা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

আহত ফজলুল হককে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) রেফার করা হলেও পরবর্তীতে জরুরি ভিত্তিতে পাবনা সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার দুই পায়ে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়।

চিকিৎসক ডাঃ আবু তালেব জানান, ফজলুল হকের দুই পায়েই জটিল অস্ত্রোপচার করে রিং পরানো হয়েছে। হাড়ের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, তিনি আদৌ স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তার সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেজো ছেলে নাজমুস সাদাত নয়ন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও কর্মস্থল থেকে পালিয়ে এসে এই নৃশংসতায় সরাসরি অংশ নেন। ছোট ছেলে নাদীম মোস্তফার বিরুদ্ধে এলাকায় মাদকাসক্তির (গাঁজাখোর) গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, এই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপকর্মের সাথে জড়িত এবং তুচ্ছ কারণে মাঝেমধ্যেই সাধারণ মানুষের গায়ে হাত তোলে।

ভুক্তভোগীর বড় ভাই নুরুল ইসলাম খান বাদী হয়ে থানায় মামলা দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি ধরা না পড়ায় এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে। ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি। ফলে মামলার বাদী, সাক্ষী ও ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

আটঘরিয়া থানা পুলিশ জানায়, মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর