নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের পাশে বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে ট্রাক থেকে বিভিন্ন পণ্য নামিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। রড, চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, ভুট্টা ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্য এসব পয়েন্টে কেনাবেচা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পরিবহনের পথে মালিকের অনুমতি ছাড়া পণ্য নামিয়ে বিক্রির অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট পয়েন্টগুলোর কার্যক্রম ও নজরদারি নিয়ে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে রংপুরগামী রডবোঝাই একটি ট্রাক সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের পাশে একটি পণ্য কেনাবেচার পয়েন্টে প্রবেশ করে। সেখানে ট্রাক থেকে রড নামিয়ে প্রতি কেজি ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। অথচ ওই সময় বাজারে রডের দাম ছিল কেজিপ্রতি প্রায় ৯০ টাকা। অর্থাৎ বাজারদরের তুলনায় কেজিতে প্রায় ৩৫ টাকা কম দামে বিক্রি করা হচ্ছিল।
টিনের আড়ালে পণ্য কেনাবেচা
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে কোনো কোনো পণ্য কেনাবেচার পয়েন্ট টিন দিয়ে ঘেরা। এসব স্থানে ট্রাক প্রবেশের পর আড়ালে মালামাল নামানো, ওজন করা ও দরদাম করে বিক্রির কার্যক্রম চলে। পয়েন্টগুলোতে মূল মালিকদের উপস্থিতি সাধারণত দেখা যায় না; দৈনিক মজুরিতে নিয়োজিত কর্মচারীরাই পণ্য গ্রহণ ও কেনাবেচার কাজ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ট্রাকের চালক জানান, চট্টগ্রাম থেকে রড ওজন করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রংপুরে পৌঁছানোর পর আবার ওজন করা হবে। পরিবহনের সময় কিছুটা ওজনের তারতম্য সাধারণত মেনে নেওয়া হলেও অতিরিক্ত খরচ হয়ে যাওয়ায় তিনি কিছু রড বিক্রি করেছেন বলে দাবি করেন। বিষয়টি মালিক জানতে পারলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন কর্মচারীরা
মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা এসব পয়েন্টে ট্রাক থেকে পণ্য নামানো, ওজন করা এবং দরদাম করার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন দৈনিক মজুরির কর্মচারীরা। একটি পয়েন্টের কর্মচারী জানান, তিনি দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরি পান। মহাসড়কের দুই পাশেই এমন অনেক পয়েন্ট রয়েছে। সেখানে পণ্য বিক্রি করতে এলে তাঁরা কম দামে কেনেন।
তবে এসব পয়েন্টের প্রকৃত মালিক কারা, পণ্য কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং বাজারদরের তুলনায় এত কম দামে কেনাবেচা হয় কেন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পণ্যের মালিকদের ক্ষতির আশঙ্কা
পরিবহনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা মালিকের অনুমতি ছাড়া পণ্য নামিয়ে বিক্রি করলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন পণ্যের মালিক ও ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে চালানের পরিমাণ, পরিবহন ব্যয় এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর পণ্যের হিসাব নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তবে কম দামে বিক্রি হওয়া সব পণ্যই যে অবৈধভাবে সরানো হয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যায় না। এসব পণ্যের উৎস, মালিকানা, ক্রয়-বিক্রির কাগজপত্র এবং পরিবহনসংক্রান্ত নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযান অব্যাহত রাখার কথা পুলিশের
এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুর রহমান জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন। এর আগেও জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে রাতভর অভিযান চালানো হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
তবে মহাসড়কের পাশের এসব পণ্য কেনাবেচার পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে কী পাওয়া গেছে, কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিংবা ট্রাক থেকে মালামাল সরিয়ে বিক্রির অভিযোগে কোনো তদন্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট পয়েন্টগুলোর মালিকানা, পণ্যের উৎস ও ক্রয়-বিক্রির নথি যাচাই করে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে। এতে প্রকৃত ব্যবসায়িক লেনদেনের সঙ্গে অনিয়মের পার্থক্য নির্ধারণ এবং পণ্যের মালিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় সহায়তা মিলতে পারে।