মো. মাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার কৃতি সন্তান মো. ওমর ফারুক ৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি মেধাতালিকায় ১০২তম স্থান অর্জন করে মাটিরাঙ্গাসহ পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।
মো. ওমর ফারুক ১৯৯৭ সালে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ফরিদ আহমেদ। ছোটবেলা থেকেই তিনি অধ্যবসায়, মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
শিক্ষাজীবনের শুরু হয় মাটিরাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে তিনি ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে মাটিরাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাটিরাঙ্গা রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়ন করেন। ২০১৩ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর মাটিরাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০১৫ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেই তিনি তাঁর মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
কর্মজীবনে বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার আগে তিনি বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য মোট আটবার সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসিতে অফিসার (২০২৩), পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক (২০২৪), পূবালী ব্যাংক পিএলসিতে সিনিয়র অফিসার (২০২৪), শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে প্রবেশনারি অফিসার (২০২৫), উত্তরা ব্যাংক পিএলসিতে সিনিয়র অফিসার (২০২৫), সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসিতে সিনিয়র অফিসার (২০২৬) এবং সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএসে বাংলাদেশ প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তি।
ওমর ফারুকের এই সাফল্যে মাটিরাঙ্গাবাসী, তাঁর শিক্ষক, সহপাঠী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্বজনদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের জন্য এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ওমর ফারুক বলেন, “সফলতার পেছনে কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি আমার বাবা-মা, শিক্ষক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে দেশের মানুষের কল্যাণে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে চাই।”
মাটিরাঙ্গার এই কৃতি সন্তানের এমন গৌরবময় অর্জনে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁর এ সাফল্য আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।