নাজিরুল ইসলাম, বগুড়া সংবাদদাতা:
দুর্নীতি প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বগুড়ার শাজাহানপুরে আয়োজিত আন্তঃবিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিযোগিতায় রানারআপ হয় মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া জেলা কার্যালয় ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।
১৭ ও ১৮ জুন অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় উপজেলার আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ফাইনালে মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন প্রতিষ্ঠানটির দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এম. এম. রুবায়েত।
প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক রাউন্ড শেষে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুল, মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বড়পাথার উচ্চ বিদ্যালয় সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হয়। সেমিফাইনাল শেষে ফাইনালে মুখোমুখি হয় বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাইফুর রহমান। উপজেলা দুপ্রকের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মোত্তালেব বাদল সরকার-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সবুজ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল হোসেন ও দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন।
বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হাসান এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রোকাইয়া পারভীন। এছাড়াও উপজেলা দুপ্রকের সহ-সভাপতি আব্দুল হালিম দুদুসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্বে বিতর্কের বিষয় ছিল— “অভাব নয়, সীমাহীন লোভই দুর্নীতির মূল কারণ”, “দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব সৃষ্টিতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য” এবং “প্রতিরোধ নয়, দমনই দুর্নীতি নির্মূলে কার্যকর উপায়”। বিতর্কে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ব্যক্তির সীমাহীন লোভ ও নৈতিক শিক্ষার অভাবই দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে এবং সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।