নাজিরুল ইসলাম, বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় মহাসড়কে সাইড চাওয়াকে কেন্দ্র করে যাত্রীবাহী একটি বাসের চালক ও কর্মচারীদের মারধর, নগদ টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া এবং চালককে বিবস্ত্র করে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে নয়মাইল এলাকার তাজ হাইওয়ে হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ৮টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল এলাকায় অবস্থিত তাজ হাইওয়ে হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বকুল শেখ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করে শাজাহানপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ-ব-১১-০১৩১ নম্বরের এইচ কে ট্রাভেলস পরিবহনের চালক মো. আরিফুল ইসলাম ও হেলপার মো. আরিফ যাত্রীবাহী বাস নিয়ে নয়মাইল এলাকায় পৌঁছালে মহাসড়কে যানজটের কারণে পকেট রোড ব্যবহার করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় একটি বিআরটিসি বাস তাজ হাইওয়ে হোটেলে প্রবেশের জন্য রাস্তা আংশিকভাবে অবরুদ্ধ করে রাখে।
বাসটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য এইচ কে ট্রাভেলসের কর্মীরা বিআরটিসি বাসের চালকের কাছে সাইড চাইলে তিনি খাবার শেষে সাইড দেওয়ার কথা বলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বাসের চালক ও কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে অনুরোধ জানাতে গেলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, একপর্যায়ে তাজ হাইওয়ে হোটেলের মালিকের নির্দেশে হোটেলের কয়েকজন কর্মচারী ও সহযোগী তাদের ওপর চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। চালক আরিফুল ইসলামকে রক্ষা করতে গেলে হেলপার ও অন্যান্য কর্মচারীকেও মারধরের শিকার হতে হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা চালক আরিফুল ইসলামের মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ওই মানিব্যাগে ড্রাইভিং লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নগদ ১০ হাজার টাকা ছিল। এছাড়া অভিযোগকারী বকুল শেখের কাছ থেকে নগদ ৩৮ হাজার ২০০ টাকা এবং প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, মারধরের একপর্যায়ে বাসচালকের পরনের লুঙ্গি ও শার্ট খুলে তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় প্রায় ২৫ মিনিট হোটেলের সামনে আটকে রাখা হয়, যা তার সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানের জন্য চরম অবমাননাকর বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের অভিযোগ, ঘটনার সময় তারা চিৎকার করলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে, ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাদের হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে।
পরে বাসে থাকা যাত্রীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অন্য একজন চালকের মাধ্যমে বাসটি গন্তব্যে পাঠানো হয়। আহতরা পরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে তাজ হাইওয়ে হোটেলের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেন বলেন, “ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। শুনেছি দুই পরিবহনের লোকজনের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আমার হোটেলের কোনো কর্মচারী এ ঘটনায় জড়িত নয়। তবে আমার প্রতিষ্ঠানের সামনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।”
শাজাহানপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।