ফিরোজ আল আমিন, নিজস্ব প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ভিজিএফের পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিতরণের অভিযোগের ঘটনায় অবশেষে ব্যবস্থা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নিম্নমানের চাল বদলে নতুন ও ভালো মানের চাল সরবরাহ করা হয়েছে। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা।
জানা গেছে, সোমবার (১৮ মে) সকালে ধামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে কয়েকটি বস্তার চাল থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। চালের মান খারাপ হওয়ায় উপকারভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, চালগুলো পচা ও খাওয়ার অনুপযোগী ছিল।
স্থানীয় উপকারভোগী ও বাসিন্দারা জানান, দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের দেওয়া সহায়তার চাল এমন নিম্নমানের হওয়ায় তারা হতাশ হন। এ সময় কয়েকজন উপকারভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে চাল পরিবর্তনের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুদ রানা বলেন, “চালের কয়েকটি বস্তা খুলতেই দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। অনেক চালের রংও স্বাভাবিক ছিল না। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।”
ঘটনাটি নিয়ে অনলাইন গণমাধ্যমে “রায়গঞ্জে দুঃস্থদের মাঝে পচা-দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিতরণের অভিযোগ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। এরপর দ্রুত পদক্ষেপ নেয় খাদ্য বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ।
ধামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রোজিন পলাশ জানান, সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। পরে অভিযোগ পাওয়া চার বস্তা চাল সরিয়ে ফেলে নতুন ও ভালো মানের চাল বিতরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব চাল নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলো বদলে নতুন চাল সরবরাহ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেদিকে নজরদারি বাড়ানো হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিম্নমানের চাল আলাদা করে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং কীভাবে এসব চাল বিতরণ তালিকায় এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
উপকারভোগীরা জানান, সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে দরিদ্র মানুষের খাদ্য সহায়তা বিতরণে আরও কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের কারণেই দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তারা বলেন, সরকারি সহায়তার খাদ্যসামগ্রী বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।