ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা বাজার এলাকায় হাটিকুমরুল মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ পাথর ডিপো। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে প্রকাশ্যে পাথর মজুত ও বিক্রির কারণে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। এতে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘুড়কা পাপিয়া হোটেল সংলগ্ন এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ পাথর ব্যবসা চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের জায়গা দখল করে চন্দন সরকার, তরুণ রায়, নিতীশ কুমার সরকার ও আব্দুল লতিফ হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রাকে করে আনা পাথর রাস্তার পাশেই খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয় এবং সেখান থেকেই খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটিকুমরুল মহাসড়কের ঘুড়কা পাপিয়া হোটেল এলাকার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে পাথরের বিশাল স্তূপ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের একাংশ দখল করে পাথরবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় সড়ক সরু হয়ে গেছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং নিয়মিত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় মিশুকচালক আতিকুল ইসলাম ও লতিফ জানান, মহাসড়কের পাশে পাথর ওঠানামার সময় ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় রাস্তায় চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি ধুলাবালুর কারণে পরিবেশ দূষণও বাড়ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
একাধিক পরিবহন চালক জানান, বিশেষ করে রাতে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক ও পাথরের স্তূপের কারণে গাড়ি চালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। অন্ধকারে সামনে কী আছে তা বোঝা কঠিন হয়ে যায়, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অনুমোদন ছাড়া মহাসড়কের পাশে এভাবে পাথর মজুত ও বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে সংশ্লিষ্টরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পাথর মজুত ও বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”