প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি:
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগরের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন করেছে চাকরি প্রার্থীরা।
সোমবার দুপুরে কলেজ চত্বরে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় চাকরি প্রার্থীরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে অবিলম্বে টাকা ফেরত ও নিয়োগের দাবি জানান।
অভিযোগকারী চাকরি প্রার্থীরা জানান, নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে মোট ২১ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। কিন্তু পরে তাদের চাকরি না দিয়ে অধ্যক্ষ তার আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেন বলে দাবি করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণ করে আসছেন অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগর। এমনকি বিনা বেতনে কয়েকজনকে দীর্ঘদিন কাজ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তাদের মধ্যে মৃত আব্দুল আজিজ নামে একজন প্রায় ১৮ বছর কাজ করেও কোনো পারিশ্রমিক পাননি বলে দাবি করা হয়। পরে অর্থনৈতিক চাপ ও হতাশায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, ২০০০ সালে ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের চন্ডিপুর বাজারে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০২ ও ২০১০ সালে বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শাখা এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে নৈশপ্রহরী পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে চারজন আবেদন করেন। ১ মে ছুটির দিনে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে চাকরি দেওয়ার কথা বলে লিমন নামে এক প্রার্থীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা এবং হেলাল উদ্দিন নামে আরেক প্রার্থীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এছাড়াও পূর্বের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সালে অফিস সহকারী পদে নুরুজ্জামান নামে একজনের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা এবং ২০০২ সালে কম্পিউটার অপারেটর পদে তোফায়েল আহমেদের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমি কারও কাছ থেকে ঘুষ নেইনি। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।”
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”