শিরোনাম
তাড়াশে শিয়াল মারার বৈদ্যুতিক ফাঁদে গৃহবধূর মৃত্যু, আহত দুই শিশু নাসিরনগরে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ, দুই দিন পর মেঘনায় মরদেহ উদ্ধার তোরাবগঞ্জে নাইট ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত লক্ষ্মীছড়ির সাঁওতালপাড়ায় পানির সংকট নিরসনে সেনাবাহিনী ভেড়ামারায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার প্রটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার স্ট্যান্ড রিলিজ সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২৬ দর্শনায় ৩ হাজার ১৮৫ আখচাষিকে ৯৫ লাখ টাকার প্রণোদনা কয়রায় বিনা বেতনে পাঠদান, অনিশ্চয়তায় ১০০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ব্রাহ্মণ শাসন বণিক সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে চান মাহমুদ
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন

শারদীয় দুর্গোৎসবের সাতকাহন: তাড়াশে ৫০ মণ্ডপে উৎসবের প্রস্তুতি

প্রতিবেদকের নাম / ৬৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

 

ফিরোজ আল আমিন , সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলা আর শিউলির সুবাস জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে ঘিরে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায়ও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা।

হিন্দু শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শরৎকালে দেবতারা নিদ্রায় থাকেন। এ সময়ে দেবী দুর্গার পূজা হওয়ায় এর নাম ‘অকালবোধন’। কালিকাপুরাণ ও বৃহদ্ধর্মপুরাণে বর্ণিত কাহিনি অনুযায়ী, রাম-রাবণের যুদ্ধের সময় শরৎকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন রামচন্দ্র। সেই থেকেই শরৎকালের দুর্গাপূজা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে আসছে।

শাস্ত্রীয় বিশ্বাসে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ও কৈলাসে প্রত্যাবর্তনের বাহন নিয়েও নানা ব্যাখ্যা রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীর আগমন ও গমনের বাহনের ওপর নির্ভর করে সেই বছরের পৃথিবীবাসীর সুখ-সমৃদ্ধি ও নানা পরিস্থিতির পূর্বাভাস পাওয়া যায়। এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘটকে এবং গমন নৌকায় বলে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের দুর্গোৎসবের সূচনা হয়েছে মহালয়ার মধ্য দিয়ে। এ বছর ১০ অক্টোবর মহালয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর ১৫ অক্টোবর মহাপঞ্চমী, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর মহাদশমী অনুষ্ঠিত হবে।

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন পালপাড়ায় এখন ব্যস্ত সময় কাটছে প্রতিমাশিল্পীদের। কারিগরদের নিপুণ হাতে মাটির প্রতিমায় রূপ নিচ্ছেন দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশসহ বিভিন্ন দেবদেবী। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে অসুর, সিংহ, ময়ূর, পেঁচা, ইঁদুর, হাঁস, সাপ ও মহাদেবের মূর্তি।

প্রতিমা তৈরির কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে অনেক কারিগর দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। মাটি দিয়ে কাঠামো তৈরির পর রং ও তুলির আঁচড়ে প্রতিমাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা।

প্রতিমাশিল্পীরা জানান, প্রতিবছর প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ছে। সেই তুলনায় পারিশ্রমিক বাড়ছে না। ফলে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই তাদের এই পেশা টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে। তবে শুধু পারিশ্রমিকের জন্য নয়, দেবীর প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা থেকেই তারা প্রতিমাকে সুন্দর ও জীবন্ত রূপ দিতে সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে থাকেন।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে শুধু প্রতিমাশিল্পীরাই নন, পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য, মন্দিরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলছে পূজার কেনাকাটা, মণ্ডপ সাজানো ও অন্যান্য প্রস্তুতি।

এ বছর তাড়াশ উপজেলায় মোট ৫০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে তাড়াশ পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নে ১৫টি, মাধাইনগর ইউনিয়নে ৭টি, দেশীগ্রাম ইউনিয়নে ১০টি, তালম ইউনিয়নে ৮টি, বারুহাঁস ইউনিয়নে ৫টি, মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নে ৩টি এবং নওগাঁ ইউনিয়নে ২টি মণ্ডপ রয়েছে।

তবে এবার তাড়াশের বাজারপাড়া দুর্গামন্দিরের পূজা নিয়ে একসময় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই শঙ্কা কাটিয়ে মন্দিরের নারীরা নিজেরাই পূজার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তারা নিজেদের মধ্যে কমিটি গঠন করে পূজার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের মতে, নারীদের এই উদ্যোগ দুর্গোৎসবের আয়োজনে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

তাড়াশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ সান্যাল বলেন, প্রতিবছর প্রশাসনের সার্বিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতায় তাড়াশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতাও পাওয়া যায়। এবারও সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়েও প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ তাড়াশ জোনাল অফিস। সংশ্লিষ্ট ডিজিএম জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় গ্রিডে কোনো সমস্যা না হলে পূজার দিনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা থাকবে। উপজেলার ৫০টি পূজামণ্ডপেই বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। তবে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি মণ্ডপে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর রাখার জন্য আয়োজকদের অনুরোধ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক রয়েছে পুলিশ। তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমাম জাফর বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।

শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হবে অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের প্রস্তুতি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে প্রচলিত ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’-এর ধারাবাহিকতায় দুর্গাপূজার পর ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মীর পূজাসহ একের পর এক ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

সব মিলিয়ে তাড়াশে এবার শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রতিমাশিল্পীদের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, পূজা কমিটির প্রস্তুতি, নারীদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতিতে পূর্ণতা পাচ্ছে উৎসবের আয়োজন। এখন অপেক্ষা শুধু দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে শারদীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনার।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
17 October 2026

শারদীয় দুর্গোৎসবের সাতকাহন: তাড়াশে ৫০ মণ্ডপে উৎসবের প্রস্তুতি

www.dainikkagoj.com
17 October 2026

শারদীয় দুর্গোৎসবের সাতকাহন: তাড়াশে ৫০ মণ্ডপে উৎসবের প্রস্তুতি

www.dainikkagoj.com