শিরোনাম
তাড়াশে শিয়াল মারার বৈদ্যুতিক ফাঁদে গৃহবধূর মৃত্যু, আহত দুই শিশু নাসিরনগরে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ, দুই দিন পর মেঘনায় মরদেহ উদ্ধার তোরাবগঞ্জে নাইট ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত লক্ষ্মীছড়ির সাঁওতালপাড়ায় পানির সংকট নিরসনে সেনাবাহিনী ভেড়ামারায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার প্রটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার স্ট্যান্ড রিলিজ সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২৬ দর্শনায় ৩ হাজার ১৮৫ আখচাষিকে ৯৫ লাখ টাকার প্রণোদনা কয়রায় বিনা বেতনে পাঠদান, অনিশ্চয়তায় ১০০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ব্রাহ্মণ শাসন বণিক সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে চান মাহমুদ
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন

সাংবাদিক আলিফ হত্যা: অজ্ঞাত ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে সিসিটিভি ও ফেসবুক পোস্ট

প্রতিবেদকের নাম / ৭৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

 

পলাশ পাল, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে দুর্গাপুর থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সাকের আহমেদ।

মামলা হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন আলামত এবং নিহত সাংবাদিকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে আলিফের আগে থেকে জানানো প্রাণনাশের আশঙ্কার বিষয়টিও। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে আলিফ পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তাকে পেলে গুলি করে হত্যার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি কার কাছ থেকে বা কী ধরনের হুমকি পেয়েছিলেন এবং ওই আশঙ্কার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুরের শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উৎরাইল এলাকার তেলনজিয়া বাজারে একটি চায়ের দোকানের সামনে আলিফকে গুলি করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা করতেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। ওই পেজে দুর্নীতি, অনিয়ম, অপরাধ ও সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতেন বলে জানা গেছে।

এ কারণে তার সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্ট ও প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোও তদন্তের আওতায় এসেছে। হত্যার আগে তিনি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে লিখেছিলেন কি না, কোনো হুমকি পেয়েছিলেন কি না কিংবা কোনো প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে কারও সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের কারণ বা কারা এর সঙ্গে জড়িত—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে স্থানীয় মাদক ব্যবসা ও চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশের সন্দেহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটি তদন্তের সম্ভাব্য একটি দিক হিসেবে আলোচিত হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করার মতো চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

এদিকে শুক্রবার নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে আলিফের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, নিহতের শরীরে গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের সময় শরীরের ভেতর থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়। ক্ষতের ধরন পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, গুলিগুলো সামনের দিক থেকে করা হয়ে থাকতে পারে।

ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের বাড়িতে আলিফের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

আলিফের স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা স্বামী হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্বামীকে আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়; তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। তাদের দুই সন্তান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে অনিন্দিতা সাংমার সঙ্গে আলিফের বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী মেয়ে প্রান্তি ও দেড় বছর বয়সী ছেলে আইয়ান সাফয়ান রয়েছে। আলিফ কলমাকান্দা উপজেলার সুনই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়ি তেলনজিয়া এলাকায় বসবাস করতেন।

ঘটনার পর সাংবাদিক আলিফ হত্যার দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকরা। শুক্রবার ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।

এখন মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত, আলিফের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম, আগে পাওয়া হুমকি বা প্রাণনাশের আশঙ্কা এবং সম্ভাব্য বিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা নিহতের পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের।

তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী না করে, আলিফের আগে থেকে জানানো প্রাণনাশের আশঙ্কা এবং হত্যাকাণ্ডের ধরন—দুই বিষয়ই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
17 October 2026

সাংবাদিক আলিফ হত্যা: অজ্ঞাত ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে সিসিটিভি ও ফেসবুক পোস্ট

www.dainikkagoj.com
17 October 2026

সাংবাদিক আলিফ হত্যা: অজ্ঞাত ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে সিসিটিভি ও ফেসবুক পোস্ট

www.dainikkagoj.com