আব্দাহিয়ুর রহমান আপেল, রংপুর বিভাগ:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত ২০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবসহ ছয়জন সরকারি চাকরিজীবীকে পদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কমিটিতে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ ছাড়া কমিটিতে দুইজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, সরকারি কলেজের একজন শিক্ষক এবং একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে ২০ সদস্যের এ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ফুলবাড়ী উপজেলার রোশন শিমুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুজ্জামান হাসুকে। সদস্যসচিব করা হয়েছে পূর্ব কুরুষা ফিরুষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মুকুলকে।
এ ছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন পশ্চিম কবির মামুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেন, যতীন্দ্র নারায়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, সরকারি সাইফুর রহমান কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক শাহিনুর রহমান এবং অগ্রণী ব্যাংক ফুলবাড়ী শাখার সিনিয়র অফিসার তহিদুল হক।
সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়ে সরকারি চাকরিবিধিতে বিধিনিষেধ রয়েছে। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি-২৫(১) অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী রাজনৈতিক দল বা তার অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বা সহযোগিতা করতে পারবেন না। বিধিটি লঙ্ঘন করলে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দুই বছর পর উপজেলা বিএনপির কমিটি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দলীয় গঠনতন্ত্র ও সরকারি চাকরিবিধির বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবসহ ছয়জন সরকারি চাকরিজীবীকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এ কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জানানোর প্রস্তুতি চলছে।
তবে নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান হাসু বলেন, তিনি ও সদস্যসচিব চাকরি ছেড়ে দেবেন। এ বিষয়ে পরদিনই পদত্যাগের কাগজ পাওয়া যাবে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে সদস্যসচিব আব্দুল মান্নান মুকুল এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলবেন।
ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে এখনো কোনো কাগজপত্র পাননি। সরকারি শিক্ষকদের রাজনৈতিক দলে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকা অগ্রণী ব্যাংক ফুলবাড়ী শাখার সিনিয়র অফিসার তহিদুল হক দলীয় কমিটিতে থাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা না বলে ফোন রেখে দেন।
অগ্রণী ব্যাংক কুড়িগ্রাম অঞ্চলের প্রধান আহসান হাবিব সরকার বলেন, প্রবিধান অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা রাজনৈতিক দল কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত থাকতে পারেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সরকারি চাকরিতে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।