মোখলেছুর রহমান ধনু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সামাজিক বনায়নের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও গাছ লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গাছ বিক্রির প্রায় দুই বছর হতে চললেও নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থের কোনো অংশই পাননি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সুফলভোগীরা। তাদের দাবি, বিধি অনুযায়ী বিক্রয়মূল্যের ৫৫ শতাংশ পাওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা বঞ্চিত রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তোরাবগঞ্জ থেকে করুণানগর পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার সড়কের গাছ বিক্রির জন্য ‘দরপত্র নং-৪ রাজস্ব ২৫/২৬’ এবং ফজুমিয়ার হাট থেকে উত্তর পাশের ওয়াবদা বেড়িবাঁধ সড়কের গাছের জন্য ‘দরপত্র নং-১ রাজস্ব ২৫/২৬’-এর আওতায় বিক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিধি অনুযায়ী লট বরাদ্দের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে সম্পূর্ণ অর্থ জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সেই শর্ত যথাযথভাবে পূরণ না করেই ঠিকাদারকে গাছ কাটার অনুমতিপত্র (ডিও) দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সরকারি রাজস্ব ও সুফলভোগীদের প্রাপ্য অর্থের বিষয়টি নিষ্পত্তি না করেই বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঝড়ে পড়ে যাওয়া আরও ৫-৬টি লটের কাঠের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাগানের জমির মালিকানা ও অধিকার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাগান সভাপতি মো. শাহজাহান মেম্বার বলেন, “জমির বৈধ দলিল ও অধিকার থাকা সত্ত্বেও বন বিভাগ আমাদের না জানিয়ে গাছ কেটে নিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে কমলনগর উপজেলা বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সুফলভোগীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে নিয়ম অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য সুবিধা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”
সামাজিক বনায়নের সুফলভোগীদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে গাছ বিক্রির অর্থ, সরকারি রাজস্ব এবং তাদের প্রাপ্য অংশের হিসাব প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।