মোঃ হোসেন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রবেশমুখে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে চাঁদা আদায় ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী চালকদের দাবি, নিয়মিত অর্থ দেওয়ার বিনিময়ে অনেক ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন মহাসড়কে চলাচল করছে। এতে যানজট নিরসনের পরিবর্তে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সীতাকুণ্ড পৌরসভার টার্নিং এলাকায় থাকা ট্রাফিক পুলিশের বক্সের সামনে মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিমালিকানাধীন বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র দেখার নামে হয়রানি করা হয়। অনেক সময় যানবাহন দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখায় মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়।
চালকদের অভিযোগ, কাগজপত্র ঠিক থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন চালক।
রবেল নামে এক সিএনজি চালক অভিযোগ করেন, গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও ‘চা-নাস্তার’ কথা বলে ট্রাফিক পুলিশ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলা দিয়ে হয়রানি করার ভয় দেখানো হয়। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক চালক টাকা দেন বলে দাবি তার।
আরেক সিএনজি চালক সেলিমের দাবি, ট্রাফিক পুলিশের বক্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাদশা নামে এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ৬০০টি সিএনজি অটোরিকশা ‘ম্যানেজ’ করা রয়েছে। তার অভিযোগ, এসব গাড়ি থেকে প্রতি সপ্তাহে ৬০০ টাকা করে নেওয়া হয়। ওই অর্থের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
চালকদের আরও অভিযোগ, মহাসড়কে লক্কড়ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করলেও সব ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। নিয়মিত অর্থ দেওয়ার কারণে কিছু যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে—এমন অভিযোগও করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মোতেজার ইসলাম অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন আটক করে নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অভিযোগকে তিনি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের প্রশাসন জড়িত নয় বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বৈধ কাগজপত্র থাকা যানবাহনের চালকদের হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।