আবু বকর সিদ্দিক বক্কর, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার আদমদীঘি থানায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন শেষে অবসর নেওয়া পুলিশ কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম খন্দকারকে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে আদমদীঘি থানা পুলিশ। চাকরিজীবনের শেষ সময়ে সহকর্মীদের এমন ভালোবাসা ও সম্মাননায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী এই পুলিশ সদস্য।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে আদমদীঘি থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারি একটি গাড়ি ফুল ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সজ্জিত করা হয়। পরে ওই গাড়িতে করে বিদায়ী কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম খন্দকারকে তাঁর নিজ বাড়ি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার উনাহাত সিংড়া গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়। এর আগে আদমদীঘি থানা চত্বরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ হোসেন। অনুষ্ঠানে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হাবিবুর রহমান হাবিব, কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন, বিদায়ী কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম খন্দকারসহ থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম খন্দকারকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। সহকর্মীরা তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরে তাঁর অবসরজীবনের সুস্বাস্থ্য ও সুখ-শান্তি কামনা করেন।
আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া জানান, বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার উনাহাত সিংড়া গ্রামের মৃত মোশাররফ হোসেন খন্দকারের ছেলে রফিকুল ইসলাম খন্দকার ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। চাকরিতে যোগদানের পর তিনি টাঙ্গাইলের মহেরা পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এবং রাজশাহীর সারদা পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) যোগদান করেন।
দীর্ঘ প্রায় ৩৯ বছরের কর্মজীবনে তিনি দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান ওসি। ২০২৫ সালে তিনি আদমদীঘি থানায় যোগদান করেন। সেখানেও নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে চলতি বছরের ১ আগস্ট চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তিতে সহকর্মীদের কাছ থেকে এমন সম্মান ও ভালোবাসা পেয়ে আবেগাপ্লুত রফিকুল ইসলাম খন্দকার তাঁর সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরে থানা পুলিশের সরকারি গাড়িতে করে তাঁকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।