মো. হোসেন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক, নিম্নাঞ্চল, বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সীতাকুণ্ড পৌরসভা, সলিমপুর, বাঁশবাড়ীয়া, কুমিরা, দারোগারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও দোকানপাটে পানি প্রবেশ করায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। এতে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
জলাবদ্ধতার কারণে অফিসগামী মানুষ, ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে কাদা ও ময়লা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এছাড়া সিএনজি অটোরিকশার সংকট দেখা দিয়েছে। যেসব যানবাহন চলাচল করছে, সেগুলোর অনেক চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রুবেল বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। অনেক দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।”
এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ পরিস্থিতিতে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ের পাদদেশ ও ঢালু এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলাম বলেন, “অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও টানা বর্ষণের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।”