ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গভীর রাতে এক হতদরিদ্র পরিবারের খড়ের পালায় আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আগুনে প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের খড় পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। এতে গরুর খাবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন পরিবারটির সদস্যরা।
রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কর্তা মোহাম্মদ জসমত আলী। তিনি মৃত মন্তাজ আলীর ছেলে। মানুষের বাড়িতে শ্রমিকের কাজ করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি কষ্ট করে গরু পালন করেন তিনি।
জসমত আলী জানান, দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে গরু পালন করছেন। গরুর খাবারের জন্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা দিয়ে খড় কিনে নিজের জায়গায় বড় একটি পালা করে রেখেছিলেন। কিন্তু গভীর রাতে কে বা কারা সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পুরো খড়ের পালাটি পুড়ে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম বলেন, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঘুমের মধ্যে জানালা দিয়ে আগুনের আলো দেখতে পান তিনি। বাইরে এসে দেখেন, জসমত আলীর খড়ের পালায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। পরে তিনি চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
জসমত আলী বলেন, “আমি গরিব মানুষ। মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে গরু কিনে পালন করছি। গরুর খাবারের জন্য ৩০ হাজার টাকা দিয়ে খড় কিনেছিলাম। কে বা কারা শত্রুতা করে আমার খড়ের পালায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। এখন গরুগুলোকে কী খাওয়াব, সেটাই বুঝতে পারছি না।”
তিনি আরও জানান, ব্যক্তিগতভাবে কারও সঙ্গে বড় ধরনের শত্রুতা নেই। তবে গ্রামের সামাজিক বিষয় নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে তার কিছুটা দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেই বিরোধের জেরে কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে প্রকৃতপক্ষে কারা আগুন দিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
জসমত আলী বলেন, ঘটনার পর তিনি তাড়াশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, জসমত আলী অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মানুষ। মানুষের বাড়িতে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালানোর পাশাপাশি গরু পালন করে বাড়তি আয়ের চেষ্টা করেন। গরুর খাবারের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা পুরো খড় পুড়ে যাওয়ায় তিনি এখন নতুন করে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, গভীর রাতে কীভাবে খড়ের পালায় আগুন লাগল, তা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হতদরিদ্র পরিবারটির ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে—তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে আগুনে গরুর খাবারের খড় হারিয়ে পরিবারটির সামনে এখন নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।