বিশেষ প্রতিনিধি:
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বাওজানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে দাখিল পাস একজন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক গণমাধ্যমকর্মী স্থানীয় বিএনপি নেতার হুমকির মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রণীত ২০২৬ সালের বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে মনোনীত ব্যক্তির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান হতে হবে। তবে বাওজানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দাখিল পাস একজন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে দিলপাশার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সজিব হোসেন ফোনালাপে নিজেকে দলের ‘পরীক্ষিত সৈনিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের এলাকার ১০-১২ জন বসে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটাই হবে।” একপর্যায়ে তিনি আরও বলেন, “রহিম সাহেবকে বলেন, এ নিয়ে উপরে কথা বলা বা নিউজ করা যাবে না।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য গণমাধ্যমকর্মীর পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও পরোক্ষ হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে সভাপতি পদে মনোনীত বাবুল আক্তার জানান, তিনি ২০০০ সালে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং পরবর্তীতে আর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা পারভীন দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতেই ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে ক্লাস্টার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান প্রথমে কমিটি গঠনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে বলেন, কমিটি গঠিত হয়ে থাকলেও এর কোনো কাগজপত্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার দপ্তরে পৌঁছায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার আলী বলেন, “সরকারি নীতিমালার বাইরে কমিটি গঠনের কোনো সুযোগ নেই। যোগ্য প্রার্থী না থাকলে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের জন্য পাঠাতে হবে।”
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।