নিজস্ব প্রতিবেদক | সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আলোচিত গৃহবধূ হত্যা মামলার চার আসামিকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্তদের গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন— মো. আলাউদ্দিন (৪০), শিউলি খাতুন সাজেদা (৪০), আল আমিন (৩২) ও শাহ জাহান আলী (৪৫)। তাদের সবার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া গ্রামে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিবাগত রাতে রাজধানীর লালবাগ ও চকবাজার থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১০-এর লালবাগ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের গ্রেপ্তার করেন।
বুধবার (২৪ জুন) র্যাব-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ২৯ মে তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া এলাকায় নিজ শয়নকক্ষে এক গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ওই গৃহবধূকে মারধর করে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ওসমান গনি বাদী হয়ে তাড়াশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অনুরোধে র্যাব-১০ আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে রাজধানীর লালবাগ ও চকবাজার এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, তাড়াশে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিহতের স্বজনরা। চার আসামির গ্রেপ্তারের ঘটনায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করলেও দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।