আশরাফুল ইসলাম রনজু, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের লব্ব্যাতলা ব্রিজ সংলগ্ন চারণভূমিতে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৭টি গরু ও ২টি বুনো শেয়ালের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের দিন ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে থাকলেও বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে অবহেলার খেসারত দিতে হয়েছে কৃষকদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে তীব্র ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে এলাকার একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তার বিচ্ছিন্ন হয়ে লব্ব্যাতলা ব্রিজের পূর্ব পাশের মাঠে পড়ে যায়। ওই মাঠে বিএমডিএ’র একটি গভীর নলকূপ রয়েছে এবং এটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ চারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তারটি পড়ে থাকার বিষয়টি স্থানীয়রা বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করলেও অভিযোগ রয়েছে যে, দ্রুত কোনো মেরামত বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
শুক্রবার সকালে প্রতিদিনের মতো স্থানীয় কৃষকদের গরুগুলো মাঠে ঘাস খেতে গেলে বিদ্যুতায়িত এলাকায় প্রবেশ করামাত্র একে একে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। ঘটনাস্থলেই ৭টি গরুর মৃত্যু হয়। একই সময়ে মাঠের আশপাশে থাকা ২টি বুনো শেয়ালও বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে মারা যায়।
মারা যাওয়া গরুগুলোর মধ্যে চারটি ছিল গর্ভবতী, একটি গরু তিন দিন আগে বাচ্চা প্রসব করেছিল এবং বাকি দুটি ছিল বকনা গরু। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নিহত গরুগুলোর মালিকদের মধ্যে রয়েছেন তালন্দ মহল্লার মুঞ্জুর হোসেন, সুমাসপুর মহল্লার মোজাফফর আলী, হরিদেবপুর মহল্লার সুধা রাণী (দুটি গরু), নিতেন চন্দ্র এবং চকু রাণী। প্রতিটি গরুর বাজারমূল্য বিবেচনায় কৃষকদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কান্না ও আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একমাত্র সম্বল ও জীবিকার প্রধান উৎস হারিয়ে অনেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। গরুগুলোর মৃত্যুতে পরিবারগুলোর ঈদ আনন্দও ম্লান হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, ঝড়ের পরপরই যদি ছেঁড়া তার অপসারণ বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতো, তাহলে এতগুলো প্রাণহানি এবং কৃষকদের বিপুল ক্ষতি এড়ানো সম্ভব ছিল।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।