দেলোয়ার হোসেন
জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে রাফি (২২) নামে এক কলেজছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটি কাটাতে ঢাকায় পড়াশোনা থেকে বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে জামালপুর শহরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের পুকুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত রাফি জামালপুর শহরের বনপাড়া এলাকার বাসিন্দা মুক্তি মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকার সেন্ট্রাল কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের পুকুরে গোসল করতে যান রাফি। সবাই মিলে আনন্দঘন পরিবেশে গোসল করছিলেন। একপর্যায়ে রাফি পুকুরের গভীর অংশে চলে গেলে পানির নিচে তলিয়ে যান। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও কিছুক্ষণ পর বন্ধুরা তাকে দেখতে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
রাফির বন্ধুদের ভাষ্যমতে, পুকুরের ঘাটে তার চশমা, মানিব্যাগ, জার্সি ও স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখে তারা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, হয়তো তিনি আগেই বাড়ির দিকে চলে গেছেন। পরে দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে সন্দেহ তৈরি হয় যে তিনি পানিতে ডুবে যেতে পারেন।
নিহতের বন্ধু রাকিব বলেন, “আমরা সবাই একসঙ্গে গোসল করছিলাম। হঠাৎ দেখি রাফি নেই। ঘাটে তার সব জিনিসপত্র পড়ে ছিল। প্রথমে মনে হয়েছিল হয়তো বাসায় চলে গেছে। আবার মনে হচ্ছিল পানিতে ডুবে গেছে। ফায়ার সার্ভিসে খবর দেব কি না, সেটি নিয়ে আমরা দ্বিধায় ছিলাম। এভাবে প্রায় ২০ মিনিট সময় চলে যায়। পরে আমরা নিজেরাই পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। একপর্যায়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসক জানান, রাফি আর বেঁচে নেই।”
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রাফির মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় তার শরীরে প্রাণের কোনো স্পন্দন ছিল না।
এদিকে একমাত্র সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা মুক্তি মিয়া। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার ছেলে ঢাকায় লেখাপড়া করে। ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়িতে এসেছিল। দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে এভাবে চলে যাবে, তা কখনো ভাবিনি। আমি আমার ছেলের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।”
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল ও নিহতের বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী এবং সহপাঠীদের ভিড় জমে। অনেকেই রাফিকে শান্ত, ভদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করে তার অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুকুর ও জলাশয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। রাফির মৃত্যু সেই প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
রাফির অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঈদের আনন্দের মুহূর্তে এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।