মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় পারিবারিক কলহ ও দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে আনোয়ার হোসেন (২২) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (৬ মে) সকালে উপজেলার চর আলগী ইউনিয়নের পূর্ব চর সেকান্দর গ্রামের মহতা গো বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ার হোসেন ওই এলাকার মৃত ডা. জবিয়ল হকের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে মা কমলা বেগম ও বোনের সঙ্গে তার স্ত্রী ইয়াসমিনের সম্পর্কের অবনতি ঘটলে সেই বিরোধ ধীরে ধীরে চরম আকার ধারণ করে।
পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, বিয়ের পর থেকেই আনোয়ার একদিকে স্ত্রী, অন্যদিকে মা ও বোনের দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে মানসিকভাবে চাপে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তুচ্ছ বিষয় নিয়েও তাকে নিয়মিত গালমন্দ ও অপমান করা হতো। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
ঘটনার দিন সকালে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আনোয়ারের সঙ্গে তার মা ও বোনের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এর কিছু সময় পর বাড়ির পেছনে একটি গাছে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে এলাকাবাসী ও স্বজনরা ছুটে এসে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই দাবি করছেন, পারিবারিক অবমাননা ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই আনোয়ার এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
খবর পেয়ে রামগতি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। ঘটনায় কারও গাফিলতি বা প্ররোচনার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পরিবারে পারস্পরিক সহমর্মিতা, বোঝাপড়া ও মানসিক সহায়তার গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছেন সচেতন মহল।