মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় মেঘনার নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো একটি অসহায় ও ভূমিহীন পরিবারের ক্রয়কৃত জমি দখল এবং চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে বসবাসরত পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারটির পক্ষ থেকে বিলকিস বেগম কমলনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং জীবনের নিরাপত্তা ও জমির অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের উত্তর চর লরেন্স গ্রামের (বর্তমানে চর পাগলা ২নং ওয়ার্ড) বাসিন্দা মো. হানিফের স্ত্রী বিলকিস বেগম ২০০৩ সালের ২০ ডিসেম্বর চর কাদিরা মৌজার একটি জমি জনৈক আমজাদ আলীর মাধ্যমে ক্রয় করেন। মেঘনার নদীভাঙনে সবকিছু হারানোর পর পরিবারটি ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে বসবাস করে আসছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির বর্তমান ওয়ারিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালী মাকসুদুর রহমান (মাকসুদ গং) দীর্ঘদিন ধরে জমির দলিল বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো পরিবারটিকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ মে বিকেলে মাকসুদুর রহমান (৩৭), মো. হাসানুজ্জামান (৩৯) ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিলকিস বেগমের বসতবাড়িতে হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা ভেকু মেশিন দিয়ে বসতঘরের ভিটি ও চলাচলের পথের মাটি কেটে ফেলে এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করে। বাধা দিলে তারা পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী বিলকিস বেগম বলেন, নদীভাঙনে সব হারিয়ে শেষ সম্বল দিয়ে তারা এই জমি কিনে বসবাস শুরু করেছিলেন। এখন প্রভাবশালী চক্রটি জোরপূর্বক তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে আমাদের ঘরের পাশের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অসহায় মানুষের জমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে হয়রানি চালিয়ে আসছে। তারা দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ক্রয়কৃত জমির প্রকৃত অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।