হৃদয় রায়হান, নিজস্ব প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ায় ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদ থেকে নুরুল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া কোর্ট রেলস্টেশনে পৌঁছানোর পর ট্রেনটির ছাদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত নুরুল ইসলামের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর এলাকায়। তিনি ওই এলাকার বজল আহমেদের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপির মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুষ্টিয়া মিললাইন রেলগেট অতিক্রম করার সময় সেখানে ঈদ উপলক্ষে প্যান্ডেলের গেট নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ট্রেনের ছাদে একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক সংবাদকর্মীকে জানান। পরে সংবাদকর্মীর মাধ্যমে খবর পেয়ে পোড়াদহ রেলওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ট্রেনটি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে পৌঁছানোর পর মরদেহটি উদ্ধার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং ট্রেনের ছাদে রক্তের দাগও দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, চলন্ত ট্রেনের ছাদে যাত্রাকালে কোনো দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে মারা যেতে পারেন। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
পোড়াদহ রেলওয়ে থানার এসআই নুরুল ইসলাম জানান, “ট্রেনের ছাদ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপির মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঈদকে সামনে রেখে ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বন্ধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর নজরদারি ও সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।