কাগজ ডেক্স :
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের পূর্বাপর ঘটনা ও সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানান, একই ভবনে পাশাপাশি কক্ষে বসবাসের কারণে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে তাদের পরিচয় ছিল। ঘটনার দিন সকালে সুযোগ পেয়ে তিনি শিশুটিকে নিজ কক্ষে নিয়ে যান এবং পরে তাকে হত্যা করেন বলে স্বীকার করেন।
জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যার পর ঘটনা গোপন ও লাশ সরানোর কাজে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারও সহযোগিতা করেন বলে তিনি দাবি করেন। পরে লাশ গোপনের চেষ্টা করা হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৯ মে সকালে একই ভবনের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার শিশুটিকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে কিছু সময় পর শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের কক্ষের সামনে সন্দেহ হলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয় এবং সেখানে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।
এজাহারে আরও উল্লেখ রয়েছে, ঘটনার সময় সোহেলের সঙ্গে আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি উপস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।