এম. এস. আই শরীফ
ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
দীর্ঘ ৭ বছর আগে অপহরণ ও হত্যা মামলার ভিকটিম হিসেবে যাকে মৃত মনে করা হয়েছিল, সেই আয়েশা খাতুনকে জীবিত উদ্ধার করেছে ভোলাহাট থানা-পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার খালেআলমপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ আয়েশা খাতুন (১৭) ২০১৯ সালের ৩১ মে দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে তার মা আদুরী বেগম আদালতে অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি দীর্ঘদিন তদন্তাধীন থাকার পর ভোলাহাট থানার এসআই মোঃ কামাল উদ্দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অবশেষে গত ৩ মে ২০২৬ রাতে রাজশাহী আলুপট্টি থেকে ভোলাহাটগামী বিআরটিসি বাসের তথ্য পেয়ে ভোলাহাট বাসস্ট্যান্ডের কাউন্টার এলাকা থেকে আয়েশাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, “দীর্ঘদিন ধরে যাকে মৃত মনে করা হচ্ছিল, তাকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। বিশেষ করে তার পরিবারের সদস্যরা মেয়েকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন।” প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও তিনি জানান।
ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল বারিক বলেন, “এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। অপহরণ ও হত্যা মামলার ভিকটিমকে জীবিত উদ্ধার করা সত্যিই আনন্দের। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও জানান, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলসহ একটি লড়ি এবং কয়েকটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করতে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করা হয়েছে।
বর্তমানে উদ্ধারকৃত আয়েশা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার নিখোঁজ থাকা এবং এতদিন কোথায় ছিলেন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।