জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিতরণকৃত চালের কয়েকটি বস্তায় পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল পাওয়া গেছে, যা নিয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সকাল ১১টার দিকে ধামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে চাল বিতরণের সময় এ ঘটনা সামনে আসে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপকারভোগীদের দীর্ঘ লাইনের মধ্যেই কয়েকটি বস্তা খুলতেই তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরে উপস্থিত লোকজন চালের মান নিয়ে প্রতিবাদ জানান।
চাল বিতরণ কাজে সহায়তাকারী ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুদ রানা বলেন,
“প্রায় চার বস্তা চাল সম্পূর্ণ পচা অবস্থায় পাওয়া গেছে। চাল থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। সরকার তো ভালো মানের চাল দেয়, তাহলে এমন নিম্নমানের চাল মানুষের মাঝে কেন বিতরণ করা হচ্ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
উপকারভোগীদের অভিযোগ, দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের বিশেষ সহায়তা কর্মসূচির চাল যদি এমন নিম্নমানের হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অসহায় মানুষের প্রাপ্য খাদ্যসামগ্রীতে এমন অব্যবস্থাপনা দুঃখজনক।
ধামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনকারী ট্যাগ অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন,
“কয়েক বস্তা পচা চালের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দুর্গন্ধযুক্ত চালগুলো আলাদা করে রাখা হয়েছে এবং সেগুলো বিতরণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রোজিন পলাশ জানান,
“গুদাম থেকে যে চাল সরবরাহ করা হয়, আমরা সেটিই বিতরণ করি। তবে যেসব চাল নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তন্ময় বিশ্বাসের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন,
“গুদাম থেকে ভালো মানের চাল সরবরাহ করা হয়েছিল। পরিবহন কিংবা সংরক্ষণের কারণে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যেসব চাল নিম্নমানের পাওয়া গেছে, সেগুলো আলাদা করে রাখতে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে নতুন চাল সরবরাহ করা হবে।”
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন,
“ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে পচা বা নিম্নমানের চাল বিতরণের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয় সুফলভোগীরা দ্রুত মানসম্মত চাল সরবরাহ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি সহায়তা যেন কোনোভাবেই অবহেলা বা অনিয়মের শিকার না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।