কাগজ ডেক্স:
সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এনায়েতপুর কোরবানির পশুর হাটে গরু-ছাগল কেনাবেচায় অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ছোট খাসি ও ছাগলের ক্ষেত্রেও অস্বাভাবিক হারে খাজনা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এতে কোরবানির পশুর বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) এনায়েতপুর গরু-ছাগলের হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পশু বিক্রির পর খাজনা আদায়ের ঘরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি হাজার টাকায় ১০০ টাকা হারে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। তবে আদায়কৃত টাকার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ রশিদে উল্লেখ করা হচ্ছে না, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস কবিরাজ জানান, তিনি বেলকুচি উপজেলার তামাই পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় ছোট ব্যবসা করেন। কোরবানির উদ্দেশ্যে এদিন এনায়েতপুর হাট থেকে ১৪ হাজার ৫০০ টাকায় একটি ছোট খাসি কিনেন। কিন্তু খাজনা দিতে গিয়ে পড়েন চরম বিপাকে।
তিনি বলেন, “হাজারে একশো টাকা হিসেবে ১৪৫০ টাকা খাজনা আসে। কিন্তু আমার কাছে দাবি করা হয় ১৫০০ টাকা। আমি ১৩০০ টাকা দিতে চাইলে রশিদ আটকে রাখে ইজারাদারের লোকজন। পরে বাধ্য হয়ে ১৫০০ টাকা দিয়েই রশিদ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আজই ঢাকায় ফিরে যাব। সময় কম থাকায় তাড়াহুড়া করে খাসিটি কিনেছি। এত বেশি খাজনা হবে জানলে এই হাটে আসতাম না। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, রশিদে পশুর দাম ও নাম-ঠিকানা লেখা থাকলেও খাজনার টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। এটা এক ধরনের প্রতারণা।”
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একইসঙ্গে হাটে খাজনা আদায়ের নির্ধারিত নীতিমালা প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবি জানান।
হাটে উপস্থিত আরও কয়েকজন ক্রেতা ও ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় এখন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কোরবানির মৌসুম এলেই কিছু অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের সুযোগ নেয়। অথচ সরকার নির্ধারিত খাজনার হার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের পরিষ্কার ধারণা না থাকায় তারা সহজেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে এনায়েতপুর হাটের ইজারাদার মাসুদ রানা পাষাণের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি নিজে খাজনা আদায় করেন না। তবে যারা কালেকশন করেন তাদের কম নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া আছে বলে জানান।
সাড়ে ১৪ হাজার টাকার খাসির বিপরীতে ১৫০০ টাকা খাজনা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে জানি না। ঈদের সময় হাট পরিচালনায় খরচ বেশি হয়, তাই একটু বেশি খাজনা নেওয়া হয়। তবে এত বেশি নেওয়ার কথা নয়।”
সরকার নির্ধারিত খাজনার হার কত এবং বাস্তবে কত বেশি আদায় করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে জানতে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কোরবানির পশুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একইসঙ্গে খাজনার নির্ধারিত হার প্রকাশ্যে টানিয়ে রাখার পাশাপাশি রশিদে আদায়কৃত টাকার পরিমাণ উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।