জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুর জেলায় পৃথক দুটি স্থানে বজ্রপাতে দুইজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন সদর উপজেলার মেষ্টা এলাকার কৃষক ফারুক এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালি ইউনিয়নের মজনু মিয়া। আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় দুই এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক ও মাতম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের আডংহাটি গ্রামের আফছার আলীর পুত্র কৃষক ফারুক (প্রায় বয়স উল্লেখযোগ্য নয়) বৃহস্পতিবার দুপুরে পারিবারিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় হঠাৎ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয় এবং আকাশে বজ্রপাত দেখা দেয়। এক পর্যায়ে বজ্রপাত সরাসরি তার ওপর পড়লে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তিনি প্রাণ হারান।
অপরদিকে, একই জেলায় মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালি ইউনিয়নের হাট মাগুরা গ্রামের কামার পাড় এলাকায় বজ্রপাতে নিহত হন মজনু মিয়া। তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন এবং জানা যায় তিনি এনসিপির ছাত্রশক্তির একজন নেতা ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, জুম্মার নামাজের আগে আকাশ হঠাৎ করে মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এ সময় মজনু মিয়া বাড়ির বাইরে দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ একটি তীব্র বজ্রপাত সরাসরি তার ওপর পড়লে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এটি একটি দুঃখজনক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং এটি প্রাকৃতিক কারণে মৃত্যু হওয়ায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়রা জানান, ওই দিন দুপুর থেকেই আকাশ মেঘলা ছিল এবং হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হয়। বজ্রপাতের সময় অনেকেই খোলা মাঠ ও বাড়ির বাইরে ছিলেন, যার ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাত বাংলাদেশে একটি বড় প্রাকৃতিক ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে।
দুই কৃষকের অকাল মৃত্যুতে জামালপুর জেলার মেষ্টা ও মাদারগঞ্জ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বজ্রপাত প্রতি বছরই দেশে প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া জরুরি। সচেতনতা বৃদ্ধি ও দ্রুত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা না গেলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।
এই দুটি মৃত্যুর ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—প্রকৃতির সামনে মানুষের অসহায়ত্ব কতটা গভীর।