সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় ওই নারীকে মারধর, বাড়িঘর ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আঁখি আক্তার (৩৮) বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় স্থানীয় এমদাদুলসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, সাদিপুর ইউনিয়নের কোনাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী আঁখি আক্তারের স্বামী প্রায় তিন বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। এ সুযোগে স্থানীয় এমদাদুল (৪০) তাদের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, যাতায়াতের একপর্যায়ে এমদাদুল গোপনে তার ছবি ও ইমুতে কথোপকথনের সময়ের কিছু ছবি সংগ্রহ করেন। পরে ওই ছবিগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ তিন লাখ টাকা ধার নেন। টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত বিভিন্ন টালবাহানা করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে ওই নারীর ছবি সম্পাদনা করে ভুয়া টিকটক ভিডিও তৈরি এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সামাজিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বলে জানান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা হয়নি। বরং বিচার চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় এমদাদুল তার সহযোগী সুলমান (৩০) ও জাকিরকে (৪০) নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালান।
এ সময় তারা ঘরে প্রবেশ করে গালিগালাজ করেন এবং প্রতিবাদ করায় আঁখি আক্তারকে মারধর করে আহত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীরা ঘরের টিনের বেড়াও ভাঙচুর করে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তার স্বামী দেশে ফিরলে তাকে হত্যা করার হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
আঁখি আক্তার বলেন, “এমদাদুলের অত্যাচারে আমার সংসার ও সামাজিক জীবন বিষাদময় হয়ে উঠেছে। পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে আমি মারধর ও হুমকির শিকার হয়েছি। আমার স্বামী দেশে ফিরলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এমদাদুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন। পরে তার এক বন্ধু ফোন ধরে জানান, এমদাদুল মোবাইল রেখে বাইরে গেছেন।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।