সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—তাড়াশ উত্তরপাড়ার আব্দুল কলিম হোসেনের ছেলে মো. সেলিম রেজা (৩৫), জাহাঙ্গীর গাঁতি গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে মো. আসাদুল ইসলাম (২৯) এবং তাড়াশ উত্তরপাড়ার মো. হাছেন আলীর ছেলে মো. হাফিজুর রহমান (৩২)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় থানা পুলিশের পৃথক দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি, সরবরাহ ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে এবারের অভিযানে গ্রেপ্তার তিনজনের কাছ থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাম জাফর বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পৃথক অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কী ধারায় মামলা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদকের উৎস ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাদকদ্রব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।