এ সালাম চান তরফদার, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের অন্যতম বড় শক্তি এ দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী। প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও দক্ষ ও কর্মঠ মানুষকে যথাযথ প্রশিক্ষণ, পৃষ্ঠপোষকতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারলে তারাই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে। আর এ ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলে বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের গলগোন্ডা গ্রামের মো. এনায়েত করীম এমনই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পেয়েছেন। নিজের শ্রম, মেধা, সততা ও দীর্ঘদিনের নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন কর্মসংস্থানের একটি ক্ষেত্র। তার উদ্যোগের সঙ্গে বর্তমানে শত শত বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের মতে, এনায়েত করীমের সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য, সততা এবং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে অবিচল থাকার মানসিকতা। ছোট পরিসর থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে নিজের উদ্যোগকে সম্প্রসারিত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের কর্মের সঙ্গে অন্যদের সম্পৃক্ত করে তৈরি করেছেন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
একজন উদ্যোক্তার সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তার উদ্যোগের মাধ্যমে যখন অন্য মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, তখন এর সুফল পৌঁছে যায় সংশ্লিষ্ট পরিবার ও সমাজে। নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেক পরিবারের আর্থিক স্থিতিশীলতা আসে, কমে নির্ভরশীলতা এবং বাড়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ।
এনায়েত করীমের উদ্যোগকে সামনে রেখে স্থানীয়ভাবে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বেকার যুবসমাজকে অলস সময় কাটানো বা অপ্রয়োজনীয় আড্ডায় যুক্ত না রেখে তাদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ, কারিগরি প্রশিক্ষণ, বাজারজাতকরণে সহযোগিতা এবং সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে আরও অনেক তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম কার্যকর পথ হলো উদ্যোক্তা তৈরি করা। একজন উদ্যোক্তা নিজে কর্মসংস্থানের সুযোগ নেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কাজের ক্ষেত্র তৈরি করেন। ফলে একজন সফল উদ্যোক্তার উদ্যোগ ধীরে ধীরে একটি পরিবার, একটি গ্রাম কিংবা একটি এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে উদ্যোক্তা মো. এনায়েত করীমের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হতে পারে। তার পথ অনুসরণ করে তরুণরা পরিশ্রম, দক্ষতা ও আত্মনির্ভরতার দিকে এগিয়ে গেলে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে যেমন স্বচ্ছলতা আসবে, তেমনি দেশের বেকারত্ব কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
তাই বেকারত্ব দূরীকরণে শুধু চাকরির পেছনে ছুটে না গিয়ে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রতি উৎসাহিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে রাষ্ট্র, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানদের।
সফল মানুষের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে শ্রম, সততা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এগিয়ে গেলে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টিও সম্ভব—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্টদের।