ক্যহলাচিং মারমা
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও গীতিকার শ্রী ব্রজ নাথ রোয়াজা আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সোমবার (৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার, অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৩টায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার দীঘিনালা সড়কের ধর্মঘর মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য (দাহক্রিয়া) সম্পন্ন হবে।
১৯৪৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ২৪৬ নম্বর ছোট পানছড়ি মৌজায় এক সম্ভ্রান্ত ত্রিপুরা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শ্রী ব্রজ নাথ রোয়াজা। তাঁর পিতা ছিলেন স্বর্গীয় রেবতী রঞ্জন রোয়াজা এবং মাতা স্বর্গীয় অঞ্জলি ত্রিপুরা।
শিক্ষাজীবনে তিনি এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক সম্পন্ন করার পর শিক্ষকতার পাশাপাশি বিএড ও এমএড ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৯ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে দীর্ঘ প্রায় চার দশক পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পরও তিনি শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর পরামর্শক (কনসালট্যান্ট) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন বহুমাত্রিক সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মী। কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, নাটক ও গানের রচয়িতা হিসেবে তিনি সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর রচিত একাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে এবং স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লেখালেখি করেছেন।
সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিক সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হন। এর মধ্যে রয়েছে একুশে সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক সম্মাননা এবং স্কাউট আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য প্রশাসনের সম্মাননা।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চার সন্তানের জনক ছিলেন। তাঁর সহধর্মিণী ইরানিকা ত্রিপুরাও একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তাঁদের সন্তানরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।
শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে শ্রী ব্রজ নাথ রোয়াজা ছিলেন একজন আদর্শ, ন্যায়পরায়ণ, সাদাসিধে ও মানবিক শিক্ষক। তাঁর মৃত্যুতে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে।