কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার কয়রা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাথাভাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়িয়ে মানহানির অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে স্থান না পেয়ে ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি থেকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কুলসুম নাহার দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করার অভিযোগ তুলে একাধিক পোস্ট করা হয়। এসব পোস্টে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেও দায়িত্বে অবহেলা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়। পোস্টগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক কুলসুম নাহার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি এবং হাজিরা খাতায় আমার স্বাক্ষর রয়েছে। ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে আমার পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্য পদে স্থান না পেয়ে একটি কুচক্রী মহল প্রতিহিংসাবশত বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত মানহানিই নয়, বরং পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সুধীজনরা জানান, মাথাভাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফলের ক্ষেত্রে সুনাম অর্জন করে আসছে। ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা বলেন, এ ধরনের অপপ্রচারের ফলে শিক্ষক-অভিভাবক সম্পর্কের অবনতি ঘটছে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত ও শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।