শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের
ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর পার এলংজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে অফিস কক্ষ ও বিদ্যালয়ের বারান্দায় পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পাঠদানের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত চণ্ডীপুর পার এলংজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ২০০৬ সালে একটি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র-কাম-বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়। ওই ভবনে তিনটি পূর্ণাঙ্গ শ্রেণিকক্ষ এবং একটি ছোট কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি ওয়াশব্লক নির্মাণ করা হলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন কোনো শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়নি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১২৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষক রয়েছেন ছয়জন। তবে একজন শিক্ষক বর্তমানে প্রেষণে অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় কার্যত পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। মাত্র তিনটি শ্রেণিকক্ষে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রেণিকক্ষ সংকট মোকাবেলায় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের একপাশে বেঞ্চ বসিয়ে এবং দেয়ালে হোয়াইট বোর্ড স্থাপন করে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই কক্ষে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া অনেক সময় বিদ্যালয়ের বারান্দায় মাদুর বা কাপড় পেতে শিক্ষার্থীদের বসিয়ে ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর মিয়া জানান, অতিরিক্ত একটি শ্রেণি ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের আসন সংকট ও পাঠদানের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হামিদা খাতুন বলেন, “অফিস কক্ষে পাঠদান করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অফিসের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ও কথাবার্তার কারণে পাঠদানে বিঘ্ন ঘটে। এতে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।”
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জাকির হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, অফিস কক্ষের পাশে ক্লাস করতে তাদের নানা ধরনের সমস্যা হয়। এছাড়া বারান্দায় বসে পাঠ গ্রহণের সময় খাতায় ঠিকমতো লেখালেখি করতেও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তারা দ্রুত নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়টির জন্য নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উপযুক্ত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে চণ্ডীপুর পার এলংজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্রুত নতুন শ্রেণি ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও উল্লাপাড়ার এই বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের শ্রেণিকক্ষ সংকট স্থানীয়দের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।