মোঃ হাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ১৭ লাখ টাকা চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূলহোতা ও পলাতক নিরাপত্তা প্রহরী আইয়ুব আলী (৫৬)-কে রংপুর জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে চুরি হওয়া টাকার মধ্যে ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৮ টাকা, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং ঘটনার সময় পরিহিত প্যান্ট ও শার্ট জব্দ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মহিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত ধারাবাহিক গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র চকবাজার শাখার অধীন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) ফি কালেকশন এটিএম বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাময়িক সময়ের জন্য বুথটি তালাবদ্ধ রেখে বাইরে যান। ওই সুযোগে বুথের নিরাপত্তা প্রহরী আইয়ুব আলী পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা নকল চাবি ব্যবহার করে বুথে প্রবেশ করেন এবং ক্যাশ ড্রয়ার থেকে ১৭ লাখ টাকা নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বুথে ফিরে এসে টাকা না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সীতাকুণ্ড মডেল থানা ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান, মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আন্তঃজেলা সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে। তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতার এড়াতে অভিযুক্ত ব্যক্তি একাধিকবার অবস্থান পরিবর্তন করে প্রথমে কক্সবাজার এবং পরে রংপুরে আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে রংপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আইয়ুব আলী (৫৬), পিতা- ছাবির আহাম্মদ, মাতা- মরিয়ম বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজার সদর উপজেলার বৈদ্যেরঘোনা, জাদিপাহাড় রোড, ৮ নম্বর ওয়ার্ড। তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে সংশ্লিষ্ট এটিএম বুথে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের করা মামলা নং-৫৬, তারিখ ২৬ জুন ২০২৬, পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৪৬১/৩৮১ ধারায় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা পেশাদারিত্ব, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।