আশরাফুল ইসলাম রনজু, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ভোরের আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বর্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া এই ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি, দোকানপাটের টিনের চালা উড়ে যায় এবং কৃষিজ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকচা গ্রামসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক মিনিটের ঝড়েই বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টিনের ছাউনি উড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে ঝড়ের তীব্রতায় বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়ে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ঝড়ে আম, জাম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলজ গাছ উপড়ে পড়ে এবং ডালপালা ভেঙে যায়। মাঠে থাকা বোরো ধান, বিশেষ করে পাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় ফসল আরও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও আমচাষিরা। আমবাগানের কাঁচা ও আধাপাকা আম ঝরে পড়ে মাটিতে ছড়িয়ে যায়। এতে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষক জলিল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমি পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। সব শেষ হয়ে গেছে। এখন কীভাবে সংসার চালাবো বুঝতে পারছি না। বছরের সব আশা এই ফসলেই ছিল।”

অন্যদিকে আম ব্যবসায়ী মিলন জানান,
“দুই বিঘা আমবাগান লিজ নিয়েছিলাম। ঝড়ের পর দেখি গাছে আম প্রায় নেই বললেই চলে। যে পরিমাণ আম পড়ে গেছে, তাতে খরচ উঠবে কিনা সন্দেহ আছে।”
ঝড়ের পর সকালে অনেক এলাকায় শিশু ও কিশোরদের ঝরে পড়া আম কুড়াতে দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, এটি ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি একটি দুঃখজনক দৃশ্যও তৈরি করেছে।
এদিকে কৃষি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে বলে জানা গেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের আকস্মিক ঝড় দিন দিন বাড়ছে, ফলে কৃষকদের সুরক্ষায় আগাম সতর্কতা, কৃষি বীমা ও দ্রুত পুনর্বাসন ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রদান না করা হলে তারা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়বেন।