নিজস্ব প্রতিবেদক:
মৃত বাবার রেখে যাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পেতে চাচা ও ফুফুদের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক ভুক্তভোগী সন্তান। বৈধ কাগজপত্র ও নামজারি থাকা সত্ত্বেও আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে সম্পত্তি আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও বেআইনি বিক্রয়ের অভিযোগ এনে তিনি ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর বাবার নামে ২০০৭ সালে সংশ্লিষ্ট মৌজার পৈত্রিক সম্পত্তির নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন হয়। সরকারি নিয়ম মেনে সম্পন্ন হওয়া ওই নামজারি অনুযায়ী সম্পত্তির বৈধ মালিকানা তাঁর বাবার নামে স্বীকৃত ছিল। পরবর্তীতে ২০১০ সালে তাঁর বাবা মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুর পর আইন অনুযায়ী তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে সন্তান সম্পত্তির ন্যায্য অংশের দাবিদার হন।
কিন্তু বাবার মৃত্যুর কয়েক বছর পরই সম্পত্তিটি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীর চাচা ও ফুফুরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে পূর্বের বৈধ নামজারি বহাল থাকা অবস্থায় সম্পত্তিটি অন্য একটি পক্ষের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নেন। ২০১৭ সালে সম্পত্তিটি বেআইনিভাবে হস্তান্তর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, সম্পত্তির মূল মালিকের নামে থাকা নামজারি আইনগতভাবে বাতিল করা হয়নি এবং কোনো বৈধ প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি। এরপরও মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা শুধু অনৈতিকই নয়, বরং আইনবিরোধী বলেও তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সন্তান বলেন, “আমি আমার বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির বৈধ অধিকার চাই। কারও সম্পত্তি দখল বা অন্যের হক নষ্ট করার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। কিন্তু আত্মীয়তার সম্পর্কের আড়ালে আমার ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। দীর্ঘদিন ধরে নানা চাপ, ভয়ভীতি ও প্রতিবন্ধকতার মুখেও আমি আইনের ওপর আস্থা রেখে লড়াই করছি। সত্য ও ন্যায়বিচার একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেই বলে আমি বিশ্বাস করি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্পত্তিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং প্রভাবশালী একটি পক্ষ বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগীকে তাঁর প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর একাংশের মতে, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ নতুন কিছু নয়। তবে বৈধ উত্তরাধিকারীর অধিকার অস্বীকার করে সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রত্যাশা করেছেন।
আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কোনো সম্পত্তির বৈধ নামজারি বহাল থাকা অবস্থায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সেটি অন্যের নামে হস্তান্তর বা বিক্রয় করা আইনসম্মত নয়। এ ধরনের ঘটনায় প্রতারণা, জালিয়াতি কিংবা অবৈধ হস্তান্তরের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে ভুক্তভোগী সন্তান বিষয়টির সুরাহা এবং তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং বৈধ উত্তরাধিকারী তাঁর ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন।