মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ১নং মেরুং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে অবস্থিত মধ্য বোয়ালখালী বাজারে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পাবলিক টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দীর্ঘদিন ধরে প্রকট আকার ধারণ করেছে। এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাজারে প্রতিদিন শত শত মানুষের সমাগম হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা চরম ঝুঁকি ও দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত মধ্য বোয়ালখালী বাজারটি মেরুং ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। বাজারটিতে বর্তমানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান রয়েছে। খালকুলপাড়া, আশ্রম পশ্চিমপাড়া, উত্তর রশিদ নগর, মধ্য বেতছড়ি, তারাবুনিয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচার জন্য এই বাজারে আসেন।
তবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজারে নেই কোনো আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। বাজারে বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকলেও অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় ফায়ার এক্সটিংগুইশার, পানির রিজার্ভার কিংবা জরুরি অগ্নি নিয়ন্ত্রণের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর মধ্য বোয়ালখালী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে বাজারের একপাশের অধিকাংশ দোকান পুড়ে যায় এবং ব্যবসায়ীরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। দীঘিনালা থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি এখনও বাজারের ব্যবসায়ীদের তাড়া করে ফেরে।
বাজারের ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী বলেন, “আগেও আগুনে বাজারের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু আজও কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। একটি দুর্ঘটনা পুরো বাজারকে ধ্বংস করে দিতে পারে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”
আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, “বাজারে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নেই। কোনো বড় পানির রিজার্ভারও নেই। রাতের বেলা বিশেষ করে আগুন লাগার আশঙ্কা নিয়ে আমরা সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকি। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে বাজারে একটি পাবলিক টয়লেটও না থাকায় নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বাজারে অবস্থান করতে আসা মানুষের জন্য এটি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হোসেন আলী বলেন, “প্রতিদিন শত শত মানুষ এই বাজারে আসে। কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রহিম বলেন, “একটি পাবলিক টয়লেট না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন নারী ও বয়স্ক মানুষ। বহু বছর ধরে এই সমস্যা থাকলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।”
মধ্য বোয়ালখালী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধার অভাব রয়েছে। বাজারে জরুরি ভিত্তিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পাবলিক টয়লেট, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং একটি বড় পানির রিজার্ভার স্থাপন করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “মধ্য বোয়ালখালী বাজারের সমস্যাগুলোর বিষয়টি আমাদের নজরে এলে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানে উপজেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাজার কমিটি ও এলাকাবাসীর দাবি, অতীতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাজারে দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম স্থাপন, আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং বড় আকারের পানির রিজার্ভার স্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাদের মতে, মানুষের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থে মধ্য বোয়ালখালী বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।