রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির রামগড়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং অভিযোগ করেও প্রতিকার না পাওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সিএনজি মালিক-শ্রমিক সংগঠনের এক দায়িত্বশীল নেতার বিরুদ্ধে যাত্রীদের সঙ্গে উগ্র আচরণ ও অসৌজন্যমূলক কথাবার্তা বলার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, রামগড় উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালকরা নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছামতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। বিশেষ করে বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোতে যাতায়াতকারী যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক যাত্রী জানান, অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই চালকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং অপমানজনক আচরণ করেন। এসব বিষয়ে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এদিকে স্থানীয় সিএনজি মালিক-শ্রমিক সংগঠনের কোষাধক্ষ্যের বিরুদ্ধে যাত্রীদের সঙ্গে উত্তপ্ত ও উগ্র ভাষায় কথা বলার অভিযোগ নতুন করে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। যাত্রীদের ভাষ্য, সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে যেখানে তাঁর ভূমিকা হওয়া উচিত ছিল যাত্রীদের অভিযোগ শুনে সমস্যার সমাধান করা, সেখানে তিনি উল্টো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা রক্ষা ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর। কিন্তু সংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয় এবং চালকদের একটি অংশ বেপরোয়া হয়ে ওঠার সুযোগ পায়।
রামগড়ের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা জানান, প্রতিদিন যাতায়াত করতে গিয়ে তারা অতিরিক্ত ভাড়া ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন তাদের আর্থিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে মানসিক ভোগান্তিও সৃষ্টি হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে সিএনজি ভাড়ার নৈরাজ্য বন্ধ, যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধ এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সংগঠনের নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।