নাজিরুল ইসলাম, বগুড়া সংবাদদাতা:
বগুড়া শহরের দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসন, নিরাপদ ও আধুনিক রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের লক্ষ্যে শহরকে বাইপাস করে নতুন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের রাণীরহাট জংশন থেকে বগুড়া শহরে প্রবেশ না করে সরাসরি গাবতলী পর্যন্ত নতুন রেল সংযোগ স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথ অপসারণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর এ প্রস্তাব ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও গুরুত্বের সৃষ্টি করেছে।
প্রতিমন্ত্রীর পাঠানো পত্রে উল্লেখ করা হয়, কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথটি শহরের অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। এ পথে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিং রয়েছে, যেখানে ট্রেন চলাচলের সময় দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। ফলে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও জরুরি সেবাগ্রহীতারা প্রতিদিন নানা ধরনের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনও রেলক্রসিংয়ে আটকে পড়ে। এতে শুধু জনদুর্ভোগই নয়, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান নগরায়নের বাস্তবতায় বগুড়া শহরের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া এই রেললাইনকে একটি বড় অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী রাণীরহাট জংশনকে কেন্দ্র করে রাণীরহাট-গাবতলী নতুন রেল সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে কাহালু-রাণীরহাট-গাবতলী রুটে আধুনিক, নিরাপদ ও যুগোপযোগী রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নতুন রেলপথ বাস্তবায়িত হলে বগুড়া শহরের অভ্যন্তরে রেলক্রসিংজনিত যানজটের স্থায়ী সমাধান হবে। পাশাপাশি ট্রেন চলাচল আরও নিরাপদ, দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন হবে। এতে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যৎ নগর সম্প্রসারণ ও পরিকল্পিত উন্নয়নের পথও সুগম হবে।
এদিকে বিদ্যমান রেলপথ অপসারণের পর সেই করিডোরকে গাবতলী থেকে বগুড়া হয়ে কাহালু পর্যন্ত চার লেন সড়কে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে বগুড়া শহরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন সংস্কার করে দূরপাল্লার বাস টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহারের বিষয়েও প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রীর ডিও পত্র পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, ব্যয় এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ করছে।
বগুড়ার সচেতন নাগরিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি বগুড়া শহরের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে। কয়েক দশকের পুরোনো যানজট সমস্যার টেকসই সমাধানের পাশাপাশি এটি শহরের সামগ্রিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তাদের প্রত্যাশা।