মোঃ মাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার মলঙ্গীপাড়া এলাকায় এক বাগান মালিকের প্রায় ২০ একর পাহাড়ি বাগান দখল করে রাতারাতি ১৫টি ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল)-এর দিকে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম উদ্বেগ, আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ২৭ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত টানা চারদিন ধরে দিন-রাত কাজ করে বাগানের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করা হয়। দখলকৃত জমিতে দ্রুত বাঁশের বেড়া ও টিনের ছাউনি দিয়ে অন্তত ১৫টি বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের আয়তন প্রায় ৮ ফুট বাই ১২ ফুট বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী নানুপুর ওবাইদিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মোঃ সালাহউদ্দিনের মালিকানাধীন মিশ্র ফল ও পাহাড়ি বাগানকে লক্ষ্যবস্তু করে এ দখল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ইউপিডিএফের দোছড়িপাড়া পোস্ট পরিচালক প্রকাশ চাকমা, চাঁদা সংগ্রাহক বাবু মারমা এবং স্থানীয় আঞ্জু মারমার নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পাহাড়ি লোকজনকে কাজে লাগিয়ে জমিটি দখল করা হয়।
সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘর নির্মাণ শেষে সেগুলো সংগঠনটির সমর্থক ও আশপাশের ভূমিহীন পাহাড়ি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার নতুন নির্মিত ঘরগুলোতে বসবাস শুরু করেছে বলেও জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেওয়ার সাহস পাননি। ফলে নিজেদের মালিকানাধীন দাবি করা জমি রক্ষায় তারা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন।
এ ঘটনায় মানিকছড়ির স্থানীয় বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পাহাড়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও বৈধ রেকর্ডভুক্ত জমি দখলের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে বহু পরিবার তাদের পৈতৃক ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ভূমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। অন্যথায় এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। সরকারি কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন কোনো জমি অবৈধভাবে দখল করার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দখলকৃত জমি উদ্ধার, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকার সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষ নজরে রয়েছে। তদন্তের পর প্রকৃত তথ্য ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।