ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি;
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় গরুর গাড়ি উল্টে এক চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকালে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বৈদ্যনাথপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের সান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার পূর্ণ পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ওই ব্যক্তি গরুর গাড়ি নিয়ে বৈদ্যনাথপুর গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি কৃষিকাজ ও মালামাল পরিবহনের কাজে নিয়মিত গরুর গাড়ি ব্যবহার করতেন। সকালে গ্রামের একটি কাঁচা সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ গাড়িটির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গরুর গাড়িটি রাস্তার পাশে উল্টে পড়ে। এ সময় গাড়ির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন চালক।
দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে বিষয়টি তাড়াশ থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।
এলাকাবাসী জানান, বৈদ্যনাথপুর ও আশপাশের গ্রামের অনেক মানুষ এখনো কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন মালামাল পরিবহনের জন্য গরুর গাড়ির ওপর নির্ভরশীল। তবে গ্রামের অনেক সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের আগে কাঁচা রাস্তাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও অসমতল অংশ থাকায় প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। তারা নিহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, বৈদ্যনাথপুর গ্রামে গরুর গাড়ি উল্টে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, আধুনিক যানবাহনের পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদে এখনো গরুর গাড়ির ব্যবহার বিদ্যমান। কিন্তু এসব ধীরগতির যানবাহনের জন্য নিরাপদ সড়ক ও সচেতনতার অভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে সরু ও ভাঙাচোরা সড়কে ভারী বোঝাই গরুর গাড়ি চলাচল করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। তাই গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং চালকদের সতর্কতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
এদিকে এ দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারে শোকের মাতম বিরাজ করছে। পরিবারটির উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে তারা মানবিক ও আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।