ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় রাবেয়া খাতুন (৫০) নামে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। উত্তপ্ত তরল বিটুমিন বহনকারী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে গেলে তিনি ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোর ৬টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের রায়গঞ্জ উপজেলার দাদপুর সাহেবগঞ্জ আন্ডার ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাবেয়া খাতুন উপজেলার দাদপুর সাহেবগঞ্জ (মহ্যৎপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা ও কোবাদ আলীর স্ত্রী। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে বগুড়াগামী উত্তপ্ত তরল বিটুমিন বহনকারী একটি ট্রাংকলড়ি ভোরে দাদপুর সাহেবগঞ্জ আন্ডার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছায়। ওই সময় ট্রাকটি মূল মহাসড়ক ব্যবহার না করে বাম পাশের একটি বিকল্প সড়ক দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ধারণা করা হচ্ছে, রাস্তা সংকীর্ণ ও ভারী যান চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রাকটি সড়কের পাশে উল্টে যায়।
এসময় রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন রাবেয়া খাতুন। হঠাৎ উল্টে যাওয়া ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর ট্রাকের নিচ থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ উদ্ধার করে। ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ওই অংশে প্রায়ই ভারী যানবাহন মূল সড়ক এড়িয়ে বিকল্প বা সংযোগ সড়ক ব্যবহার করার চেষ্টা করে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে ভোর ও রাতে বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারী ট্রাক ও লরির কারণে পথচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
এলাকাবাসী আরও জানান, আন্ডার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ট্রাফিক নজরদারি জোরদার করা জরুরি। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে রাবেয়া খাতুনের মৃত্যুর খবরে তার স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য না হলেও সংসারের নানা কাজে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।