এস চাঙমা সত্যজিৎ
স্টাফ রিপোর্টার
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলায় কৃষির আধুনিকায়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দিনব্যাপী ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) পানছড়ি উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কৃষক-কৃষাণী, জনপ্রতিনিধি, কৃষি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আহসানুল হক চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির বিকল্প নেই। ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পানছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুস সালাম, পানছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ ফেরদৌস ওয়াহিদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আলী এবং পানছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ এম এ বাসার।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। ফিল্ড স্কুল কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ পদ্ধতি, রোগবালাই দমন, জৈব সার ব্যবহার এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করছেন।
পানছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ কংগ্রেসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক প্রতিনিধি তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা জানান, ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করা হয় এবং কৃষি উন্নয়নে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।