মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু প্রতিনিধি :
দুর্গম পাহাড়ি উপজেলা রাঙ্গামাটির লংগদুতে দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না সেবাগ্রহীতারা। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী, দরিদ্র ও দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে বছরের পর বছর ধরে কর্মকর্তা নেই। কোথাও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে চলছে কার্যক্রম, আবার কোথাও একজন কর্মচারীর ওপর পুরো অফিসের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা পার্শ্ববর্তী উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন এবং রবিবার দুপুরের দিকে ফিরে আসেন। ফলে সপ্তাহের অধিকাংশ সময় কার্যত অচল থাকে অনেক সরকারি দপ্তর।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে লংগদু উপজেলার উপজেলা সমাজসেবা অফিস, উপজেলা মৎস্য অফিস, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা সমবায় অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিস, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিস ও উপজেলা খাদ্য অফিসসহ অন্তত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এসব দপ্তরের অনেকগুলো চলছে মাত্র একজন কর্মচারী দিয়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো দপ্তরে ৮ থেকে ১০ বছরেও স্থায়ী কর্মকর্তার দেখা মেলেনি। একজন কর্মচারী অফিসের কাজে বাইরে গেলে কিংবা ছুটিতে থাকলে পুরো অফিসে তালা ঝুলিয়ে রাখতে হয়। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষজন সেবা না পেয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও তিনি জেলা সদরের একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হওয়ায় নিয়মিত লংগদুতে সময় দিতে পারেন না। এছাড়া ওই দপ্তরের একাডেমিক সুপারভাইজারের পদও আড়াই বছর ধরে খালি রয়েছে। ফলে একজন অফিস সহকারী ও অফিস সহায়ক দিয়েই উপজেলার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রয়েছে তীব্র চিকিৎসক সংকট। সেখানে ন্যূনতম পাঁচজন এমবিবিএস চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছেন মাত্র তিনজন। সম্প্রতি তাদের মধ্য থেকেও দুইজনকে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। ফলে পাহাড়ি এই জনবহুল এলাকায় চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত রোগীর ভিড় হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল না থাকায় অনেক রোগী সঠিক চিকিৎসা না পেয়েই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এক্স-রে টেকনিশিয়ান ও ডেন্টাল চিকিৎসক থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সেবাগ্রহীতারা জানান, বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে কর্মকর্তা না থাকলেও বিষয়টি নিয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্য পদে কর্মকর্তা