কাগজ ডেক্স :
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ও মানবিকতা-জাগানিয়া ঘটনা ঘটেছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ১০৪ বছর বয়সী বৃদ্ধ তসীমউদ্দীন প্রামাণিক নিজের সন্তানের কাছেই অবহেলার শিকার হয়ে ঘরছাড়া হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামের বাসিন্দা তসীমউদ্দীন প্রামাণিক দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে বসবাস করছিলেন। কিন্তু পারিবারিক বিরোধের জেরে তার ছেলে নয়ন তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকে তিনি হয়ে পড়েন আশ্রয়হীন ও দিশেহারা।
জীবনের পুরো সময় পরিবার ও সন্তানদের জন্য উৎসর্গ করলেও শেষ বয়সে এসে নিজেরই ঘরে ঠাঁই না পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
অসহায় অবস্থায় স্থানীয় মানবিক দম্পতি রেজাউল ও তার স্ত্রী আকলিমা তাকে আশ্রয় দেন। তাদের ছোট্ট ঘরেই বর্তমানে তিনি অবস্থান করছেন। আকলিমা বলেন, “তিনি খুবই মুরব্বি মানুষ, আমরা যতটুকু পারি সেবা করছি।”
এলাকাবাসী এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, “একজন বাবা সারা জীবন সন্তানের জন্য ত্যাগ করেন, অথচ শেষ বয়সে এমন পরিণতি অত্যন্ত মর্মান্তিক।”
প্রতিবেশী রোমজান আলী বলেন, “যখন ভালো ছিলেন তখন সবাই ভালো ছিল, এখন বয়স হওয়ায় তাকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় যুবক আকমল হোসেন বলেন, সরকারি সহায়তা ও আইনগত ব্যবস্থা নিলে এই বৃদ্ধের শেষ জীবনটা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে কাটতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে তসীমউদ্দীনের ছেলে নয়নের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাবনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আবদুল কাদের জানান, বিষয়টি অবগত হয়েছে এবং বৃদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর মানবিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে।