চালককে কুপিয়ে মিশুক ছিনতাই: রহস্য উদঘাটনে মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
নাজিরুল ইসলাম, শাজাহানপুর বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার শাজাহানপুর থানা পুলিশ একটি চাঞ্চল্যকর ছিনতাই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে। ছিনতাই হওয়া মিশুক গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের পাশাপাশি এই ঘটনার সাথে জড়িত দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখ রাত আনুমানিক ১১:৩০ মিনিটে শাজাহানপুর থানাধীন জোড়া তালপুকুর এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মিশুক চালক মো: শাহজালাল বাবু সুজন (২৫), পিতা- মো: শাহজাহান আলী প্রতিদিনের ন্যায় ভাড়া খাটিয়ে বনানী হতে নিজ বাড়ি ফেরার পথে জোড়া তালপুকুর নামক স্থানে পৌঁছালে ৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার গতিরোধ করে।
ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালক বাবুর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে। এরপর তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন, নগদ ৬০০-৭০০ টাকা এবং মিশুক গাড়িটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় পরবর্তীতে শাজাহানপুর থানায় একটি মামলা (মামলা নং-২৮) দায়ের করা হয়।
বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মো: শাহাদত হোসেন (পিপিএম) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: মোস্তফা মঞ্জুর (পিপিএম)-এর দিকনির্দেশনায় শাজাহানপুর থানা পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযানে নামে।
অভিযানে পুলিশ ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত মূল অভিযুক্ত মো: আল-আমিনকে (২১) গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার শোবার ঘর থেকে ভিকটিমের লুণ্ঠিত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। আল-আমিন পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত অপর এক কিশোর অপরাধী মো: হিফানুর রহমান তুষারকে (১৬) কাহালু থানার মালদহ এলাকা থেকে আটক করা হয়। মামলার অপর এক পলাতক আসামি মো: রাসেলকে (২০) গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত মিশুক গাড়ির অংশবিশেষ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে: ভিকটিমের লুণ্ঠিত ০১টি পুরাতন অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন।কাহালু থানার জামগ্রাম বাজারের ‘নুসাইব নুসাইবা ফার্নিচার’ দোকান থেকে চ্যাসিস ও ৩টি চাকা ব্যতীত মিশুক গাড়ির খণ্ডিত সকল অংশ। বগুড়া শহরের সূত্রাপুর এলাকা থেকে মিশুক গাড়ির ৪টি ব্যাটারি।
শাজাহানপুর থানা অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, আসামিরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটিয়েছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত মালামাল আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মালিকের নিকট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।








